কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তোলা হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি না দেওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে হাফিজুর রহমানকে আদালতে তোলা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেননি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।’
তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া সন্দেহভাজন আরও দুই সেনা সদস্যকে খোঁজা হচ্ছে। কেউ আটক হলে সময় মতো গণমাধ্যমে সব জানানো হবে।’
আরও পড়ুন :
এদিকে, তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে হাফিজুর রহমান তনু হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্য দিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন হাফিজুর। আমরা এসব তথ্য যাচাই করবো। তাই, এ নিয়ে এখনই বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’
তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, ‘আজ দুপুর দেড়টার দিকে মোবাইলে কল দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের কুমিল্লা কারাগার গেটে থাকতে বলেছেন। আমি বাবাকে (মামলার বাদী) গেটে পৌঁছে জানতে পেরেছি আসামিকে (হাফিজুর) কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাই, তাকে দেখা হয়নি।’
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর পিবিআই তাকে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন (বুধবার) হাফিজুর রহমানকে ঢাকায় ল্যাবে নিয়ে তার বেশ কিছু ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মে মাসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত টিম তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পায়। তবে পরে আর সন্দেহভাজন কারও সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে (ক্রস ম্যাচ) দেখা হয়নি। গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল পিবিআই।
আদালতের আদেশ পেয়েই তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পিবিআই। হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই প্রথম সন্দেহভাজন একজনের ডিএনএ ক্রস ম্যাচ (মিলিয়ে দেখা) নমুনা নেওয়া হয়। অপর দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদেরও ডিএনএ নমুনা নেওয়া হবে বলে পিবিআই জানিয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পর দিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে সিআইডি দীর্ঘ দিন ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
দুই দফায় ময়নাতদন্তেও তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ ছিল না। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান মো. তরিকুল ইসলাম।
কেকে/এমএ