চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি খাল এখন শুধু সেচের পানির উৎস নয়, গ্রামীণ আনন্দ-উৎসবেরও কেন্দ্রবিন্দু। খালের ওপর নির্মিত রাবার ড্যাম স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আর নির্ধারিত সময়ে পানি ছেড়ে দিলে সেই খালই মুহূর্তে পরিণত হয় মাছ ধরার উৎসবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে খালে জমে থাকা পানি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। আশপাশের গ্রাম তো বটেই, দূরদূরান্ত থেকেও শত শত মানুষ ছুটে আসেন মাছ ধরতে। কেউ জাল নিয়ে, কেউ ঝাঁকি, কেউবা ডোলা হাতে, আবার কেউ খালি হাতেই নেমে পড়েন পানিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ পানিতে নেমে মাছ ধরায় ব্যস্ত। খালের কাদামাটির ভেতর হাত ঢুকিয়ে কিংবা পানির স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাছ ধরার এই দৃশ্য যেন এক গ্রামীণ মেলা। দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে অনেকে দেখছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন এ আনন্দে।
স্থানীয় কৃষক মো. শাহজাহান বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও শুষ্ক মৌসুমে এই খালে পানি থাকত না বললেই চলে। ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হতো। রাবার ড্যাম নির্মাণের পর এখন সারা বছর পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন বেড়েছে।’
মাছ ধরতে আসা মন্টু নাথ জানান, বছরে এমন সুযোগ খুব বেশি আসে না। তাই সবাই মিলে এখানে আসি। মাছ ধরা যেমন হয়, তেমনি আনন্দও হয়।
স্থানীয় প্রবাসী বাসিন্দা মোহররম আলী বলেন, ‘হারুয়ালছড়ি খালের এই চিত্র এখন উন্নয়ন ও আনন্দের এক অনন্য মেলবন্ধন। যেখানে সেচের সুবিধা যেমন নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে গ্রামীণ জীবনের সহজ-সরল আনন্দের নতুন এক উপলক্ষ্য।’
হারুয়ালছড়ি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির ব্যবস্থাপক মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘খালের পানি সংরক্ষণ, সুষ্ঠু বণ্টন ও তদারকির দায়িত্ব আমরা পালন করছি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পানি ছাড়ার ফলে কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পাচ্ছেন, আবার একই সঙ্গে মানুষ এই উৎসবের সুযোগও পাচ্ছেন।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পষিদের চেয়ারম্যান ও পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘রাবার ড্যাম শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়াচ্ছে না, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে। মানুষ বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছে, পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনও মজবুত হচ্ছে।’
তিনি জানান, এই প্রকল্প ভবিষ্যতে কৃষি ও মৎস্য খাতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেকে/এমএ