শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কষ্ট করে আবাদ করা বোরো ধান পুরোপুরি পাকতে না দিলেই কেটে ফেলছেন অনেকে, শুধু ফসল বাঁচানোর আশায়।
রামচন্দ্রকুড়া, নয়াবিল ও পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলে এ বছর ভালো বোরো আবাদ হয়েছিল। ধান পাকতে শুরু করলেও হঠাৎ করে বনের ভেতর থেকে দলবেঁধে নেমে আসছে বন্যহাতির পাল। কখনো ধান খেয়ে, কখনো পা দিয়ে মাড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতি করছে তারা।
ফসল রক্ষায় কৃষকরা খেতের পাশে টঙ ঘর বানিয়ে দিন-রাত পাহারা দিচ্ছেন। হাতি তাড়াতে চিৎকার, টিন পেটানো, আগুনের মশাল—সবকিছুই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কেরোসিন তেলের সংকট ও বাড়তি দামের কারণে এই প্রতিরোধও এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আন্ধারুপাড়া গ্রামের গারো কৃষক মেজেস সাংমা জানান, প্রায়ই হাতির আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়। তাই বাধ্য হয়ে আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও অনেকেই তা পান না—বিশেষ করে বর্গাচাষীরা জমির কাগজপত্রের জটিলতায় বঞ্চিত হন।’
দাওধারা গ্রামের কৃষক মো. হালিম উদ্দিনের অভিযোগ, ক্ষতির তুলনায় ক্ষতিপূরণ খুবই কম এবং তা পেতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
তিনি হাতি প্রবণ এলাকায় শক্তিশালী আলোর ব্যবস্থা ও সহজ ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বন বিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং মানুষ ও বন্যহাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি সহজ করার বিষয়টিও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
দীর্ঘদিন ধরে চলা মানুষ-হাতি সংঘাতের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
কেকে/এমএ