মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৬ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খেত খামার
মাল্টা ও লেবু চাষে বিদেশ ফেরত শরীফের ভাগ্যবদল
জেএইচ রাজু, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম
মাল্টা ও ড্রাগন বাগানের পরিচর্যা করছেন বিদেশ ফেরত উদ্যোক্তা শরীফ মিয়া। ছবি: প্রতিনিধি

মাল্টা ও ড্রাগন বাগানের পরিচর্যা করছেন বিদেশ ফেরত উদ্যোক্তা শরীফ মিয়া। ছবি: প্রতিনিধি

টানাপোড়েনের সংসারে বড় হওয়া শরিফ ভাগ্যবদলের জন্য সৌদি যান। কিন্তু সেখানে ভালো আয় রোজগার না হওয়ায় দেশে ফিরে এলাকায়  মাল্টা, ড্রাগন ও লেবু চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫ একর জমিতে তিনি মিশ্র পদ্ধতিতে ফল বাগানের উদ্যোগ নেন। 

শরীফ বলেন, ‘বিদেশ থেকে ফিরে বেকার বসে না থেকে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করি। ভিয়েতনাম জাতের মাল্টায় সফলতার পর এবার ভিয়েতনাম জাতের ড্রাগন ও চায়না সিডলেস বা বীজহীন লেবু চাষ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘এই লেবু অত্যন্ত লাভজনক ও বারোমাস লেবু পাওয়া যায়। অল্প সময়ে অধিক মুনাফা হওয়ায় রাজশাহী থেকে শতশত লেবুর কলম রোপণ করেছি। এটি সারাবছর লেবু দেয়। এই জাত থেকে ১৫বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।’

২০২৩ সালে উদ্দোক্তা শরীফ প্রথমবারের মতো ১৬০ শতাংশ জমিতে ভিয়েতনামি বারোমাসি উচ্চ ফলনশীল ও সুস্বাদু মিষ্টি এবং রসালো সাইট্রাস জাতের মাল্টা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। মাল্টায় সফলতার পর এবার ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন তিনি।

ফলের বাগানের মাঝে তৈরীকৃত গভীর নালার মধ্যে বিভিন্ন জাতের মাছ ও নালার পাড়ে শাক সবজিও আবাদ করে ভালো আয় করছেন তিনি।

শরীফের বাড়ি রসুলপুর ইউনিয়নের ফরাজিরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ফ্রি ভিসায় বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি ফলের বাগানেও কাজ করতেন। 

রসুলপুরে নিজ বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ৪৮০ শতাংশ জমিতে শরীফ গড়ে তুলেছেন তার এই মিশ্র খামার। এখানে সাইট্রাস মাল্টার গাছ আছে ১৫শটি। তিন বছর বয়সী এই গাছগুলো থোকায়থোকায় ফল দিচ্ছে। প্রতি মাল্টা গাছে ফলন হচ্ছে প্রায় ৬০ কেজি। বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। এছাড়াও তার খামারে ৪ বছর বয়সী প্রায় ৭ হাজার ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে। এখান থেকে তিনি বছরে ৬ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করেন। চলতি বছর ড্রাগন বাগান থেকে ১৫ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির আশা করেন।

সম্প্রতি বাগান ঘুরে দেখতে গেলে শরীফ খোলা কাগজকে জানান, বিদেশ থেকে ফিরে বেকার বসে না থেকে এলাকার বেকার ছেলেদের নিয়ে একটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই ফলের বাগান করেছি। তিনি ঘুরে দেখান বিভিন্ন জাতের মাল্টা ড্রাগন ও পেয়ারা এবং লেবুগাছ। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা মাল্টা ও লেবু দেখিয়ে শরীফ জানাচ্ছিলেন চাষের পদ্ধতিও। 

তিনি জানান, ‘উঁচু জমিতে বেলে দো-আঁশ মাটিতে জৈব সার কীটনাশক ও সঠিক পরিচর্যা করে তিনি চাষ করেন। 

ড্রাগনে কোনো হরমন বা টনিক ব্যবহার না করে জৈব পদ্ধতি অবলম্বন করেই উৎপাদন করেন তিনি। সাইজ প্রতি কেজি ড্রাগন ১৫০ থেকে ২৮০টাকা কেজিতে বিক্রি করেন।

তিনি আরও জানান, পানির সংকট মোকাবিলায় তিনি খালের মতো গভীর জলাশয় তৈরি করে সেখানে কার্প জাতীয় মাছ চাষের পাশাপাশি জলাশয়ের পানি দেন ফলের বাগানে। তিনি জানান গত এক বছরে জলাশয় থেকে নিজে খাওয়ার পাশাপাশি ৩লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে ভালো আয় করেছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা খোলাকাগজকে বলেন, জৈব পদ্ধতিতে ফল চাষ এই অঞ্চলের কৃষকদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা মাল্টার চেয়ে দেশে চাষ করা মাল্টার স্বাদ কোনো অংশে কম নয়। প্রক্রিয়াজাতকরণ ও দীর্ঘ সংরক্ষণের জন্য বিদেশি মাল্টার পুষ্টিমান ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বাগানের মাল্টায় সেই চিন্তা নেই। তার বাগানের ড্রাগন ফলে নতুন ফুল ও ফল এসেছে। কোনো রকম টনিক বা হরমন ব্যবহার ছাড়াই উৎপাদিত ড্রাগন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন যায়গায় রপ্তানি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা তাকে পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন সহায়তা করেছেন। তার এই ফলের বাগান দেখে অনেক চাষি বা বেকার যুবকরা তাকে অনুসরণ করবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close