হাওড়জুড়ে পাকা ধানের সোনালি ঢেউ, সকালের রোদে দুলছে কৃষকের বছরের পরিশ্রমের ফসল। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের মাঝেও স্বস্তি নেই হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের মনে। শ্রমিকের তীব্র সংকট, অস্বাভাবিক মজুরি বৃদ্ধি ও কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের কাটা ধান ঘরে তোলা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও বর্তমানে অধিকাংশ ধান কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে।
কিন্তু আকাশে মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত ধান কাটার চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও যান্ত্রিক সহায়তার অভাবে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার ভরা মৌসুমেও শ্রমিকের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে শ্রমিক দিয়ে ১ বিঘা ধান কাটতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০০০-৩২০০ টাকা, আর মাড়াইয়ে বাড়তি গুনতে হচ্ছে আরও প্রায় ৭০০ টাকা।
অন্যদিকে, কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করলে একই কাজ ২০০০-২৫০০ টাকায় সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে প্রতি বিঘায় ১০০০-১৭০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হওয়ার কথা থাকলেও মেশিন সংকটের কারণে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। বরং কোথাও কোথাও মেশিনের খরচও বেড়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ভর্তুকিতে বিতরণ করা অনেক হারভেস্টার মেশিন মাঠে দেখা যাচ্ছে না। কিছু মেশিন অচল অবস্থায় পড়ে আছে, আবার কিছু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কৃষক জমসেদ মিয়া বলেন, “পুরো হাওর এলাকায় খুঁজেও একটি হারভেস্টার মেশিন পাইনি। মেশিন থাকলে শ্রমিক সংকটে এত ভোগান্তি হতো না।”
আরেক কৃষক সোহেল মিয়া জানান, ধানের বাজারমূল্য কম এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘শ্রমিক সংকট নিরসনে অন্য এলাকা থেকে শ্রমিক আনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৮০টি কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার কাজ চলছে।
তবে কিছু মেশিন অচল বা মেরামতের অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে বলেও স্বীকার করেন রুহুল আমিন।
কেকে/এমএ