গত দুই দিন ধরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝোড়ো হাওয়ায় পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান হেলে পড়েছে। সেই সঙ্গে নিচু এলাকার অনেক ধানক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। হেলে পড়া ও পানিতে ডুবে যাওয়া ধান বিনষ্টের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। একদিকে দিনমজুর সংকট, অন্যদিকে ফসল বিনষ্টের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বোরো চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আজিজ মিয়া বলেন, “চলতি বোরো মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেছেন। তার বেশির ভাগ জমি নিচু এলাকায়। ইতোমধ্যে তিনি ২ বিঘা জমির ধান কাটামাড়াই করেছেন, কিন্তু ধান ও খড় শুকাতে পারেননি। এর মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। তার এক বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং পানিতে ডুবো অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুরোপুরি ডুবে যেতে পারে।’’ পাকা ধান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১০ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ জমি নিচু এলাকায়। নিচু জমির ধান কাটামাড়াই শুরু হয়েছে, আর উঁচু জমির ধান আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পুরোদমে কাটামাড়াই শুরু হবে। এক বিঘা জমিতে খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ২৮ মণ ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, “বর্তমানে ধান কাটা-মাড়াইয়ের দিনমজুর সংকট দেখা দিয়েছে। চুক্তি ছাড়া দিনমজুররা কোনো কাজ করছেন না। বিঘাপ্রতি কাটা-মাড়াইয়ের জন্য দিতে হচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। তাছাড়া বৃষ্টির দিনে দিনমজুর পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।’’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, “গত দুই দিন ধরে যে হারে ঝোড়ো হাওয়া বইছে, তাতে ফসলের তেমন ক্ষতি বা বিনষ্টের সম্ভাবনা নেই। আগামী দুই দিন পর বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা হারভেস্টার মেশিন নিয়ে প্রস্তুত আছেন ধান কাটার জন্য। তবে নিচু এলাকার ফসল ঘরে তুলতে কিছুটা কষ্ট হবে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন ভালো হচ্ছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’’
কেকে/এলএ