প্রতি বর্ষায় পাহাড়ি ঢল ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় দিশেহারা হয়ে পড়া বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অবশেষে স্বস্তির বার্তা মিলেছে। বছরের পর বছর জমে থাকা দুর্ভোগ লাঘবে ২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
সোমবার (৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা দেখছেন “জীবন বাঁচানোর প্রকল্প” হিসেবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর খালের আড়াই কিলোমিটার এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি খালের আড়াই কিলোমিটারসহ মোট ৫ কিলোমিটার এলাকা খনন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত ভরাট ও অবহেলায় এই খালগুলো প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হতো ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।
প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫৯ জন শ্রমিকের মাধ্যমে খননকাজ শুরু হবে। পরে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে ব্যবহার করা হবে এক্সকাভেটরসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “মূল পরিকল্পনায় বাঁকখালী চিকনছড়ি খাল অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বনবিভাগের আপত্তির কারণে সেটি পরিবর্তন করে জারুলিয়াছড়ি খালকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনো জটিলতা থাকবে না। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, এই খালগুলো সচল হলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে, যা পুরো উপজেলার জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। বিশেষ করে কৃষিজমি রক্ষা পাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
তিনি যোগ করেন, “জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোর নজরদারি থাকবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা এলেই নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসল—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়ে। বহুদিন ধরে খাল খননের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা মো. নুরুল আলম বলেন, “প্রতি বছর পানি উঠে ঘরে ঢুকে যায়। অনেক সময় দিনের পর দিন পানিবন্দি থাকতে হয়। এবার যদি খালগুলো ঠিকমতো খনন হয়, তাহলে হয়তো এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাব।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শুধু জলাবদ্ধতা নয়, বন্যার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। একই সঙ্গে তৈরি হবে টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, যা নাইক্ষ্যংছড়ির সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
এখন দেখার বিষয়—দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই প্রকল্প বাস্তবে কতটা সুফল বয়ে আনে এবং দুর্ভোগে থাকা মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে পারে।
কেকে/এলএ