সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
খেত খামার
কিশোরগঞ্জে পানির নিচে ১২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি, কৃষকের চোখে অন্ধকার
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে প্রকৃতি যেন কৃষকের সোনালি স্বপ্নের ওপর বিষাদ ঢেলে দিয়েছে। টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলায় নতুন করে আরও প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই নিয়ে জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ হাজার হেক্টরে। 

সোমবার (৪ মে) বিকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকই পাকা ধান কাটতে পারছেন না, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাতে থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদ ওঠেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মনে। 

জেলার নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, জেলার ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.২৬ মিটার, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৯৫ মিটার, বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৫৮ মিটার, যা ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কমে ১.৭২ মিটারে নেমেছে, যা গতকালের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।

পাউবো জানিয়েছে, সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাওরের কৃষকদের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল এখন পানির নিচে পচছে। যারা কিছু ধান কাটতে পেরেছেন, তারাও পড়েছেন নতুন বিপত্তিতে।"ধান কাটলেও শুকানোর জায়গা নেই। উঠানে পানি, বাইরে কাদা। ধান পচে যাচ্ছে দেখে পানির দরে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে ভেজা ধান আড়তদারদের বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা তাদের উৎপাদন খরচের চেয়েও অনেক কম। ফলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার প্রান্তিক চাষি।

ধানের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে রবিশস্য ও সবজি ক্ষেত নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। অতিবৃষ্টির কারণে নিচু জমির সবজি ক্ষেতে পানি জমে গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে। যদিও আজ সোমবার সকালের পর রোদের দেখা মেলায় কৃষকদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, তবে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা বড় ধরনের লোকসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।’

সাদিকুর রহমান বলেন, ‘রোববার বিকাল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। ইতোমধ্যে জেলার হাওরাঞ্চলের ৬১ পার্সেন্ট ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে। তবে পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমাদের মাঠ পর্যায়ের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছে।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কিশোরগঞ্জ   পানির নিচে ফসলি জমি   কৃষকের চোখে অন্ধকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close