কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নে ব্যক্তিগত স্বার্থে পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট ভরাট করে ফেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত বিঘা জমির ধান ও ফসল পানির নিচে তলিয়ে পচে যাচ্ছে। গত এক বছরেও স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুরুদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর কাগারচর ওয়ার্ডের গাবতলি বাজার সংলগ্ন এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্টটি জনৈক ব্যক্তি তার মালিকানাধীন জায়গায় হওয়ার অজুহাতে ভরাট করে ফেলেছেন। এর ফলে পুরো এলাকার পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত অগ্রহায়ণ মাসেও জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় হাজার মণ ধান পচে নষ্ট হয়েছিল। চলতি বোরো মৌসুমেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটায় কৃষকদের লোকসানের পাল্লা ভারি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু ধান নয়, জলাবদ্ধতার কারণে তলিয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা কলা বাগান, পাট ক্ষেত, পানের বরজ এবং বিভিন্ন প্রকার সবজি। কৃষকরা বাধ্য হয়ে চড়া দামে শ্রমিক নিয়ে পানির নিচ থেকে পচা ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক কাজল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত মৌসুমেও হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে শেষে শুধু লোকসানই গুনেছি। এবারও চোখের সামনে আমার সোনার ধান পানির নিচে পচে নষ্ট হচ্ছে। দিনরাত এক করে ফলানো ফসল যখন এভাবে ধ্বংস হয়ে যায়, তখন কলিজায় আগুন জ্বলে। প্রশাসনের এই উদাসীনতা আমাদের মতো গরিব কৃষকের মরণফাঁদ ছাড়া আর কিছুই না।’
কৃষক ফজলুর রহমান জানান, আমরা কৃষক মানুষ, মাটি কামড়ে পড়ে থাকি। এই কৃষিই আমাদের বাঁচার একমাত্র পথ, আমাদের ছেলেমেয়ের আহার জোগানোর একমাত্র উপায়। কিন্তু আজ এক কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকার কারণে আমাদের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে চলেছে। জমিতে পানি জমে আছে, ফসল তোলার কোনো উপায় নেই। যদি এই অবস্থায় আমাদের ফসলটুকু ঘরে তুলতে না পারি, তবে পরিবার নিয়ে না খেয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। আমরা এখন নিঃস্ব হওয়ার উপক্রমে দাঁড়িয়েছি।
কিশোরগঞ্জ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান বলেন, ‘মালিকরা ঘরবাড়ি তৈরির জন্য মাটি ভরাট করায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। গত এক মাসে সাবেক ও বর্তমান ইউএনও এবং এসিল্যান্ডকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সমাধান না করলে কৃষকরা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।’
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি খোলা কাগজকে জানান, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। দেখি আমি কি করা যায়।
দ্রুত এই কালভার্টটি সচল করে কৃষকের আবাদি জমি রক্ষা করার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বুরুদিয়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
কেকে/ এমএস