পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে ওই ছাত্রী ও তার পরিবার।
শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী মোসাৎ শারমিন আক্তার স্থানীয় খারিজমা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি এলাকার আকন বাড়ির শামীম আকনের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৬ মে) সকালে শারমিনের বাবা কাজের উদ্দেশ্যে পাশের উপজেলা বাউফলের কালাইয়া যান। দুপুরে বাড়ি থেকে ফোনে জানতে পারেন, প্রতিবেশী রুস্তম মিয়া ও তার তিন ছেলে শাহিন, নাঈম ও ইয়াসিনসহ ১০-১২ জন লোক তাদের বাড়ির পাশের কয়েকটি বড় গাছ কেটে ফেলছে এবং জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছে।
অভিযোগে বলা হয়, ‘বাড়িতে তখন নারী সদস্যরা ছিলেন। তারা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ সময় শারমিন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকেও হুমকি দেওয়া হয়।’
শারমিনের বাবা শামীম বলেন, ‘আমি একজন দিনমজুর। সেদিন কাজের জন্য বাউফলের কালাইয়ায় গিয়েছিলাম। পরে বাড়ি থেকে জানতে পারি, রুস্তম মিয়া ও তার ছেলেরা আমাদের জায়গার গাছ কেটে ফেলছে এবং ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছে। বাড়িতে শুধু মহিলা মানুষ ছিল। বাধা দিতে গেলে তাদের ধাওয়া দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে ভিডিও করতে গেলে ওদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘‘কোন স্কুলে পড়ে, কোন পথ দিয়ে যাতায়াত করে খেয়াল রাখো, বাকিটা পরে দেখা যাবে।’’ এরপর থেকে আমার মেয়ে ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না।’
শামীম বলেন, ‘তাদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছে। কয়েক বছর আগে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে জমিটি আমাদের বলে সিদ্ধান্ত হয় এবং লিখিতভাবেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এখন যদি কোনো বিরোধ থাকে, সেটা আইনি বা প্রশাসনিকভাবে সমাধান হোক। কিন্তু আমার মেয়েকে ভয়ভীতি দেখানো কেন?’
শারমিন আক্তার বলেন, ‘ওরা আমাদের বাড়িতে ঢুকে গাছপালা কেটে ও বেড়া ভেঙে ফেলছিল। আমি ভিডিও করতে গেলে আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। পরে বলে আমি কোন স্কুলে পড়ি, কোন পথে যাই তা নজরে রাখতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর থেকে আমি স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছি। সামনে স্কুলে যেতেও চাই না। আমার যদি কোনো ক্ষতি হয়, তার দায় কে নেবে? আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।’
স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কাশেম আকন ও তার ছেলেরা শান্ত স্বভাবের মানুষ। জমিজমা নিয়ে রুস্তম মিয়ার পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক বছর আগে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। তখন এক গর্ভবতী নারীও মারধরের শিকার হন বলে শুনেছি। এলাকায় এ নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে। রুস্তম মিয়ার পরিবারকে কিছু বলতে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিষয়টি এখনই সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।’
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রুস্তম মিয়া।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘরের পাশের জমি তারা কিনেছে। কিন্তু আমরা যে জমি কিনেছি, সেটি বুঝিয়ে দিচ্ছে না। তাই আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়েছি। তবে কোনো মারামারি বা ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটেনি। শারমিন আক্তারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।
এ বিষয়ে দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ