মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      ভূমিকম্পে কাঁপলো রাজধানী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা যাবে না
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১১:২৮ এএম আপডেট: ১১.০৫.২০২৬ ১১:৩২ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

জনআস্থা পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও বাহিনীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে শুরু হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। এতে জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের স্বতন্ত্র পে-স্কেল, অনারারি পদোন্নতি, ওভারটাইম ভাতা ও তদন্ত কাজে ব্যবহারের জন্য মোটরসাইকেল কিনতে সুদমুক্ত ঋণের দাবি তুলেছেন পুলিশ সদস্যরা।

গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পুলিশের কল্যাণ প্যারেডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। দলীয় নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী তারা পরিচালিত হবেন। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা এবং নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে-আপদে জনগণ যেন থানা-পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে। পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবে সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে এটি সরকারেরও সাফল্য।’

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখা দরকার, আইনি সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষ প্রথমেই থানায় আসেন। পুলিশের সহায়তা চান। সেখানে এসে তারা যেন রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের অংশ।’

পুলিশ সদস্যদের মাঠপর্যায়ে সরকারের দূত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যরা তাদের দক্ষতা এবং তাৎক্ষণিক কৌশলী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তারা শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন; তারা হলেন রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার।

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। আমি মনে করি, জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। এ কারণেই পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি। তাই কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডে’র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, ‘অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় ঐক্যই প্রধান শক্তি। মনে রাখতে হবে, আমাদের পথ সহজ নয়, কিন্তু উদ্দেশ্য মহৎ। আমরা একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ, আধুনিক ও মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এই কঠিন কাজটিই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। তাই সাধ্যের সবটুকু দিয়েই সরকার আপনাদের চাওয়া-পাওয়াগুলো অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ বিকাশমান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ লক্ষ্যেই সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায়। গুম-অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, পেশাদারত্ব ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠানে সরকারের কাছে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য আলাদা পে-স্কেলের দাবি করেছেন পুলিশ সদস্যরা। সেইসঙ্গে ঝুঁকিভাতাসহ ওভার ডিউটি বাবদ ৫০ শতাংশ ওভারটাইম বিল এবং চাকরি জীবনের শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে অনারারি পদোন্নতিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

পে-স্কেল প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র পে-স্কেল পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি। বাংলাদেশে বিচার বিভাগ ও সেনাবাহিনীতে স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালু আছে। দেশ ও জনগণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সবচেয়ে বেশি সেবা দিয়ে থাকে। তাই তাদের মতো পুলিশের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলের দাবি কল্যাণ প্যারেডের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানানো হয়েছে।

মামলার তদন্তের বেশির ভাগ কাজ করেন থানার উপপরিদর্শকরা (এসআই)। কিন্তু তাদের যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য যানবাহন অপ্রতুল। মামলার তদন্ত কাজে গতি আনতে ও যাতায়াত ব্যবস্থার সমাধানে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সুদমুক্ত লোন ও মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচের বিল দাবি করেছেন বিমানবন্দর থানার ওসি এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার।

কল্যাণ প্যারেডের আলোচনায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি তুলেছেন, তদন্ত ব্যয় বেড়েছে। সেটি বাড়িয়ে দেওয়া হোক। তদন্ত কাজে জড়িত এসআইদের জন্য থানা থেকে আলাদা কোনো যানবাহন নেই। মোটরসাইকেল কিনতে অগ্রিম সুদমুক্ত লোন ও জ্বালানি খরচ দিলে তদন্ত কাজে গতি বাড়বে। একইসঙ্গে কল্যাণ প্যারেডে ঝুঁকি ভাতাসহ ওভারটাইম ডিউটি বাবদ ভাতার দাবি উত্থাপন করেছেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

কল্যাণ প্যারেডে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা আরও জানান, প্যারেডে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) একজন নারী কনস্টেবল অনারারি পদোন্নতির দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সদস্যরা যারা কনস্টেবল বা ইন্সপেক্টর পদ থেকে রিটায়ার করেন, বিশেষ করে কনস্টেবলরা, তারা যেন রিটায়ার্ডের আগে অন্তত একটি র‌্যাংক পদোন্নতি পেয়ে অবসরে যেতে পারেন; যেটা সেনাবাহিনীতে আছে। এতে করে সরকারের আবার কোনো আর্থিক ভর্তুকিও লাগবে না।’ অনারারি পদোন্নতি কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে।

কল্যাণ প্যারেডে অংশ নেওয়া একজন ডিআইজি (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) বলেন, পুলিশের থানা, ব্যারাক, থানা ফাঁড়িসহ বিভিন্ন ইউনিটের অপারেশনাল কাজের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্প বাবদ অর্থ বরাদ্দ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। সেটি নতুন করে চালুর আর্জি জানানো হয়েছে।

তবে পুলিশের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবল ৪০ বছর চাকরি করে অবসর গ্রহণ করলেও পরবর্তী পদোন্নতি পান না। এ কারণে বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় অবসরকালীন কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) এবং উপপরিদর্শক (এসআই) থেকে অনারারি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা প্রদানের কথা ভাবছে সরকার। এটি তাদের মনোবল বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পদ পর্যন্ত ওভারটাইম ভাতা বিবেচনা করা হতে পারে।

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অধিক কর্মচাপ বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষান্তে আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন, কার্যালয় নির্মাণ ও আবাসন সমস্যা দূরীকরণে বর্তমান সরকার আন্তরিক। এ ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজন করে যুগোপযোগী করা হবে। এ সময় তিনি পুলিশ বাহিনীকে জনপ্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নিরপরাধ   ব্যক্তি   হয়রানি   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close