কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক তরুণীর অনশনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় রাতেই ওই যুগলের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বুধবার (১৩ মে) উপজেলার সদর ইউনিয়নের জামাদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রেমিক জাবেদ উপজেলার সদর ইউনিয়নের জামাদারপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত কথিত কর্মচারী জাবেদের সঙ্গে একই ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার আশা আক্তারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জাবেদ তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললেও সম্প্রতি বিয়ে নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। এ অবস্থায় বুধবার সকালে আশা আক্তার জাবেদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন এবং অনশন শুরু করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
অনশনরত আশা আক্তার বলেন, ‘জাবেদ আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক রেখেছে। এখন সে আমাকে অস্বীকার করছে। বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।’
তবে জাবেদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছিল। এদিকে ঘটনাটি এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি জানতে জাবেদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রথমে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় তাদের বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে রাতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন মুকুল বলেন, “সকাল থেকে মেয়েটি ছেলের বাড়িতে অবস্থান নেয়। বিষয়টি দুপুরের দিকে জানতে পারি। পরে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রেমের সম্পর্কের সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর রাত ৮টার দিকে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।”
উল্লেখ্য, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকলেও তার নিয়োগের বৈধতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ রয়েছে।
কেকে/ এমএস