চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে ফের পোস্টার লাগিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
শনিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, বিবিএ অনুষদ, কাটা পাহাড় রোডসহ বেশ কয়েকটি দেয়ালে এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে।
পোস্টার গুলোর উপরে লিখা রয়েছে—
‘গ্রাম নগর-মাঠ পাথার বন্দরে তৈরি হও
ঘরে ঘরে ডাক পাঠাও, তৈরী হও!’
পোস্টার গুলোর মাঝে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ছবি এবং এর নিচে লিখা ‘ঐতিহাসিক ১৭ই মে দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রত্যয় আরেক প্রত্যাবর্তনের।’ এবং তার নিচে লিখা রয়েছে ‘চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বলছে, আমাদের নেত্রীর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ নানা সংকটে জর্জরিত। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশে শেখ হাসিনাকে প্রয়োজন। আমরা শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন চাই।আমরা বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগনকে বলতে চাই আমাদের নেত্রী ক্রাইসিস ম্যানেজার। শুধুমাত্র শেখ হাসিনাই পারবে দেশকে এই নানামুখী সংকট থেকে উত্তরণ করতে।
জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি একটি নিষিদ্ধ সংগঠন গোপনে সক্রিয় হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যেহেতু ছাত্রলীগের কর্যক্রম নিষিদ্ধ—দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আছে এবং আইনের শাসন বিদ্যমান আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করব—যেন এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। যে সংগঠন জুলাইয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তের হোলিখেলায় মেতেছিল তাদের যেকোনো অপতৎপরতা আমরা রাজপথে শক্ত হাতে মোকাবিলা করব। ক্যাম্পাসসহ সারাদেশে তাদের কার্যক্রম চালানোর কোনো সুযোগ নেই।”
চবি শাখা ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু সন্ত্রাসীরা গোপনে ক্যাম্পাসে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। যখন ক্যাম্পাসে কেউ থাকে না, তখন তারা গোপনে এসব কার্যক্রম করে চলে যায়। আমরা বার বার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করার পরেও এ ব্যপারে উনারা নির্বিকার। প্রশাসনের দায়িত্ব যারা এসব কার্যক্রম চালাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা। যদি তারা (ছাত্রলীগ) কখনো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে এসব কার্যক্রম চালাতে আসে তখন আমরা প্রতিহত করব এবং সেই জায়গায় আমরা অনড়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। আমাদের যে পরিমাণ নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে, তা দিয়ে পুরো ক্যাম্পাস শতভাগ নজরদারিতে রাখা কঠিন। একেকজন নিরাপত্তাকর্মী একেক স্থানে দায়িত্বে থাকেন। এ সুযোগে কেউ ফাঁকফোকর দিয়ে পোস্টার লাগিয়ে ছবি তুলে চলে যাচ্ছে। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কমানো যায়।”
তিনি বলেন আরও বলেন, “গত এক সপ্তাহে প্রায় তিনবার পোস্টারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি। কিছু ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেছে বা কেটে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটছে। দ্রুত নতুন করে সিসিটিভি স্থাপন ও মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তখন নজরদারি আরও সহজ হবে।”
এর আগে ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন এবং ২৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পোস্টার দেখা যায়। গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার চত্বরে এক ছাত্রলীগ নেতাকে হামে শিশু হত্যার প্রতিবাদে প্লেকার্ড হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়।
কেকে/এজে