মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
কিশোরগঞ্জে বোরোর পর সবজিতেও বড় ধাক্কা, বিপাকে ৪ হাজার কৃষক
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৩:০৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ক্ষতির ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি কিশোরগঞ্জের কৃষকেরা। এরই মধ্যে নতুন করে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জেলার সবজি খাত। কয়েক দফা টানা অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও অনিয়মিত আবহাওয়ায় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠের পর মাঠ সবজিখেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চাল কুমড়া, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, করলা, ঢেঁড়স, বরবটি, মরিচ, ঝিঙ্গা, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্যোগে কিশোরগঞ্জে সবজি খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৯২৫ জন কৃষক। শুধু ফসলের ক্ষতিই নয়, এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় বাজারেও। উৎপাদন কমে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ইতোমধ্যে সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেও যে ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা, বরবটি, কাঁচামরিচ, ঝিঙ্গা ও লাউয়ের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। 

জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাল কুমড়া, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, করলা, ঢেঁড়স, বরবটি, মরিচ, ঝিঙ্গা, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কোথাও গাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে, কোথাও আবার অতিরিক্ত আর্দ্রতায় রোগবালাই ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকেরা সময়মতো পরিচর্যাও করতে পারছেন না।

কৃষকেরা জানান, কয়েক মাস আগেই বোরো ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা আশার আলো হিসেবে সবজি চাষে ঝুঁকেছিলেন। ঋণ করে, ধারদেনা করে অনেকে জমিতে সবজি আবাদ করেন। কিন্তু হঠাৎ করে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সেই স্বপ্নও ভেঙে পড়েছে। ফলে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাঠ থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে জমিতে কয়েকদিন ধরে পানি জমে থাকায় অধিকাংশ সবজি গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে। কোথাও গাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেছে, আবার কোথাও পুরো লতা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে নিচু ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অনেক কৃষক সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করেও সফল হননি।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ৪ হাজার ৬৫২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ হয়েছিল। কিন্তু অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় পুরো আবাদি এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়ে। এর মধ্যে ১৪১ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।

হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১৯ মেট্রিক টন হিসেবে জেলায় মোট ২ হাজার ৬৮৭ মেট্রিক টন শাকসবজির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি শাকসবজির গড় মূল্য ৪৫ টাকা ধরে কৃষি বিভাগ মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেছে ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন হোসেনপুর ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষকেরা। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, হোসেনপুর উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমির শাকসবজি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। উপজেলাটিতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এখানে প্রায় ৮৫০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫৩২ মেট্রিক টন সবজি নষ্ট হয়েছে।

একইভাবে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়  মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এখানে প্রায় ৮৫০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখানে ২৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।৫৩২ মেট্রিক টন সবজি নষ্ট হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এখানে প্রায় ৪২০জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখানে ২৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ৪৩৩ মেট্রিক টন সবজি নষ্ট হয়েছে।

কটিয়াদী উপজেলায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯৪ লাখ টাকা। এখানে প্রায় ৪১০জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখানে ১১ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ২০৯ মেট্রিক টন সবজি নষ্ট হয়েছে।

করিমগঞ্জ উপজেলায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ টাকা। এখানে প্রায় ৩২০জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখানে ১২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ২২৮ মেট্রিক টন সবজি নষ্ট হয়েছে।

তাড়াইল উপজেলায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৬ লাখ টাকা। এখানে প্রায় ৪০০জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখানে ৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ৫৭ মেট্রিক টন সবজি নষ্ট হয়েছে।

বাজিতপুর উপজেলায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ টাকা। এখানে প্রায় ২৮০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখানে ৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ১৫২ মেট্রিক টন সবজি নষ্ট হয়েছে।

কুলিয়ারচর উপজেলায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এখানে প্রায় ৪২০জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখানে ২১ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ৩৯৯ মেট্রিক টন সবজি নষ্ট হয়েছে।

ভৈরব উপজেলায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬৪ লাখ টাকা। এখানে প্রায় ৫০জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখানে ৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ১৬৪ মেট্রিক টন সবজি নষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ঢেঁড়স, চালকুমড়া, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, করলা, ডাঁটা, পুঁইশাক, বরবটি, বেগুন, লাউ, ধুন্দল, শসা, কাকরোল, পটল, লালশাক, ডাঁটাশাক ও পেঁপেসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি। কোথাও অতিরিক্ত পানিতে গাছ পচে গেছে, আবার কোথাও আর্দ্রতা বেড়ে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে বাজারে বেড়েছে সবজির দাম।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে জেলা শহরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া বেগুনের দাম ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫ টাকা, করলা ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকা, কাঁকড়ুল ৭০ থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের কাশোরারচর গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় দেশে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেন তিনি। অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ করেছিলেন। শুরুতে একবার মরিচ বিক্রি করতে পারলেও পরে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। 

তিনি জানান, জমিতে পানি জমে থাকায় গাছগুলো ধীরে ধীরে পচে যায় এবং ফলন একেবারেই বন্ধ হয়ে পড়ে। বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও পরিচর্যাসহ সব মিলিয়ে যে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, এখন তা পুরোপুরি লোকসানে পরিণত হয়েছে। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “অনেক আশা নিয়ে চাষ করছিলাম। ভাবছিলাম এবার কিছু লাভ হইলে সংসারটা একটু সামলাইতে পারমু। কিন্তু বৃষ্টিতে সব শেষ অইয়া গেছে।”

একই গ্রামের কৃষক জলিল মিয়া বলেন, প্রায় ৫৫ শতাংশ জমিতে চাল কুমড়ার আবাদ করেছিলেন তিনি। গাছে মাত্র ফলন আসা শুরু হয়েছিল এবং বাজারে বিক্রির প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টিতে জমিতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে একের পর এক গাছ মরে যেতে থাকে। 

তিনি বলেন, “জমির দিকে তাকাইতে পারি না। এত কষ্ট কইরা গাছ বড় করছি, কিন্তু কয়েকদিনের পানিতেই সব শেষ।” বাঁশ, সুতা, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে তার প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন এই কৃষক।

হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, দুই একর জমিতে ঢেঁড়স ও করলার আবাদ করেছিলেন তিনি। গাছে ভালো ফলন আসতে শুরু করেছিল এবং স্থানীয় বাজারে সবজি পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টি শুরু হলে পুরো জমিতে পানি জমে যায়। অতিরিক্ত পানিতে গাছের গোড়া পচে নষ্ট হয়ে যায়। 

তিনি বলেন, “সবজিগুলো বাজারে নিতে পারলে ভালো দাম পাইতাম। কিন্তু এখন তো খরচের টাকাও উঠবে না। কীভাবে ঋণ শোধ করব সেই চিন্তায় আছি।”

কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের কৃষক মো. রফিক মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে লাউ, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের চাষ করেছিলেন তিনি। কয়েকদিন আগেও তার ক্ষেতজুড়ে সবুজ লতায় ভরা ছিল। ফলনও ভালো হচ্ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় সব লতা মাটিতে পড়ে পচে গেছে। 

তিনি বলেন, “একটা সময় মনে হচ্ছিল এবার লাভ হইবো। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব শেষ। এখন পুরোপুরি লোকসানের মধ্যে পড়ে গেছি।”

পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী এলাকার কৃষক লুৎফর মিয়া বলেন, প্রতিবছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এবার অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় তার পুরো সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, “আমরা কৃষক মানুষ, চাষাবাদ ছাড়া আর কিছু জানি না। কিন্তু প্রতি বছর যদি এভাবে ক্ষতি হয়, তাহলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।” 

তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা ও কৃষি প্রণোদনার দাবি জানিয়ে বলেন, “সরকার যদি পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে আগামী মৌসুমে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন সরাসরি কৃষিতে আঘাত হানছে। অনিয়মিত বৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সবজি উৎপাদনে নতুন সংকট তৈরি করছে। উৎপাদন কমে গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমড়া জাতীয় সবজি। বিশেষ করে নিচু এলাকাগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। জেলায় প্রায় ১৪১ হেক্টর সবজির জমি নষ্ট হয়েছে। সবজির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ৪ হাজার জন কৃষক। কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের রবি মৌসুমের আগেই সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে কৃষিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। তাই কৃষকদের জলাবদ্ধতা সহনশীল ও স্বল্পমেয়াদি জাতের সবজি চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগাম পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ের কৃষি সহায়তাও বাড়ানো হবে।”

তবে কৃষকদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত ক্ষতিপূরণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং বাস্তবসম্মত সরকারি সহায়তা ছাড়া তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। তাদের ভাষায়, “প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই কৃষক বাঁচে। কিন্তু এখন সেই লড়াই টিকিয়ে রাখাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে গেছে।”

কেকে/ এমএম


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close