কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের নতুন মিয়াজিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৯ হাজার ৫০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি। একই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামুর গর্জনিয়া বাজার সংলগ্ন নতুন মিয়াজিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক যুবকের নাম আবদুল হালিম (২১)। তিনি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার এক সিএনজি চালকের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান কচ্ছপিয়া হয়ে রামুতে প্রবেশ করবে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর থেকে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। পরে সকাল ৯টার দিকে কম্বনিয়া-মৌলভীকাটা শাহসুজা সড়ক হয়ে একটি মোটরসাইকারে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আসতে দেখে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পাচারকারীরা গর্জনিয়া বাজার হয়ে নতুন মিয়াজিপাড়ার দিকে পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে মুনিয়া নামক এলাকার একটি পুরোনো বাড়ির পাশের সবজি ক্ষেতে ইয়াবার চালানটি ফেলে দেয় তারা। এ সময় আবদুল হালিমকে আটক করা হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই সময় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) একটি টহলদলও সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবজি ক্ষেত থেকে ইয়াবার চালানটি জব্দ করে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা আগে থেকেই অভিযান পরিচালনা করছিলাম। ধাওয়া দিয়ে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনা একটি হলেও অভিযান দুই সংস্থার ছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করে দেখবেন।”
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা মৌলানা কবির আহমদ বলেন, “পুলিশ আসামি ধরেছে আর বিজিবি ইয়াবা জব্দ করেছে। ঘটনাটি একই হলেও দুই পক্ষের আলাদা অভিযান ছিল।”
স্থানীয় আরেক ব্যবসায়ী আবদুল হামিদ দাবি করেন, আটক আবদুল হালিম একটি কথিত ইয়াবা সিন্ডিকেটের গাড়িচালক।
তিনি বলেন, “এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সীমান্তপথে ইয়াবা পাচার করে আসছে। প্রশাসন আন্তরিক হলে মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবুজর আল গিফারী ও তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
কেকে/এমএ