মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই প্রভাবশালী পরিবহন শ্রমিক গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত তিন সংবাদকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকালে উপজেলার চৌমুহনা ও স্টেশন রোড এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক খোলা কাগজের মৌলভীবাজার জেলার স্টাফ রিপোর্টার ও শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের কেষাধ্যক্ষ মো. এহসানুল হক, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের জেলা প্রতিবেদক ইসমাইল মাহমুদ ও দৈনিক ভোরের ডাকের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন বাচ্চু।
আহত সাংবাদিকদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ মজিবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জারু, শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি কামাল হোসেন, শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক সৈয়দ সালাউদ্দিন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ববিরোধ ও তুচ্ছ কথাকাটাকাটির জের ধরে হঠাৎ করেই উভয় পক্ষের শত শত শ্রমিক লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। মুহূর্তের মধ্যেই শ্রীমঙ্গল শহরজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে থাকেন এবং চৌমুহনা ও আশপাশের সমস্ত বিপণিবিতান ও দোকানপাট নিমেষেই বন্ধ হয়ে যায়।
এই সংঘর্ষের প্রত্যক্ষ প্রভাবে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘ প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা ধরে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে থাকে, যার ফলে দূরপাল্লার হাজারো সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন এবং মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এক তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ ও কঠোর অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ তৎপরতায় বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। এই সহিংসতার ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘সংঘর্ষের সময়কার ও আশপাশের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংগ্রহ করা হচ্ছে; অপরাধী যে-ই হোক না কেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মজিবুর রহমান চৌধুরী জানান, তিনি ইতোমধ্যেই শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং দ্রুত একটি ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
কেকে/এমএ