গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম কবির মেম্বার ও জুলাই যোদ্ধা সোহেল তালুকদারের ওপর হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) সকালে টোক নগর গ্রামে কবির মেম্বারের বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পরে স্থানীয় শতাধিক মানুষ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম কবির মেম্বার অভিযোগ করেন, তিনি টোক ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের টানা তিনবারের নির্বাচিত সদস্য। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই টোক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে টোক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাজরাতুল ইসলাম রাফি তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাঁদার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে টানানো পোস্টার, বিলবোর্ড ও তোরণ ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কবির মেম্বারের দাবি, গত ১৭ মে রাত ১০টার দিকে টোক বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে রাফির নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শ্রীপুর পৌর যুবদলের সভাপতি ও জুলাই যোদ্ধা সোহেল তালুকদারসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সোহেল তালুকদারের অবস্থার অবনতি হলে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় কবির মেম্বার বাদী হয়ে ১৮ মে কাপাসিয়া থানায় আব্দুর রশিদ, তার ছেলে রাফিসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় হামলা ও সাত লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে টোক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, “শফিকুল ইসলাম কবির মেম্বার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে রাতে টোক বাজারে বৈঠক করছিলেন। খবর পেয়ে আমরা কয়েকজন গিয়ে তাদের বাজার থেকে বের করে দিই। সেখানে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। চাঁদাবাজির অভিযোগও মিথ্যা।”
তিনি আরও বলেন, বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
টোক তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/ এমএস