মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং কার-লাইটেস শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ, মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় বিবাদমান পক্ষের অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীর হামলার শিকার হয়েছেন দায়িত্বরত সাংবাদিকরা।
তারা হলেন—শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক খোলা কাগজের মৌলভীবাজারের স্টাফ রিপোর্টার মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির), সিনিয়র সদস্য ইসমাইল মাহমুদ, কার্যকরী সদস্য নূর মোহাম্মদ সাগর, আমজাদ হোসেন বাচ্চুসহ স্থানীয় আরও দুই সংবাদকর্মী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোড এলাকায় দুষ্কৃতকারীরা রড, এসএস পাইপ এবং কাঠ দিয়ে ৬ জন গণমাধ্যমকর্মীকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঐতিহ্যবাহী শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
বুধবার (২০ মে) সন্ধায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হাই ডন এক বিবৃতিতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংঘর্ষসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করে দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট ভূমিকা পালন করে। এই দায়িত্ব পালনে যারা বাধা দেন তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিপন্থী চিন্তা ধারণ করেন।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়—পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করার দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা প্রতিবাদে সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নেমে আসবে।
অপরদিকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব, মৌলভীবাজার সাংবাদিক ফোরাম, বাহুবল প্রেসক্লাব, শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার মতপ্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের অবিলম্বে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে হামলায় আহত সাংবাদিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
এদিকে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে জরুরি সভার আয়োজন করে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব। সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, ফেসবুক লাইভ ও সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে থানায় মামলা করা হবে। ইতোমধ্যে সিসি টিভি ফুটেজে হামলাকারী দুইজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুতই অন্যান্য দুষ্কৃতীতারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলবে জানান শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও যুগান্তরের প্রতিনিধি সৈয়দ সালাউদ্দিন।
কেকে/এজে