মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      ভূমিকম্পে কাঁপলো রাজধানী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ভোগান্তি এড়াতে আগেই রাজধানী ছাড়ছে মানুষ
শরীফ আহমেদ ইমন
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১০:১৩ এএম আপডেট: ২৩.০৫.২০২৬ ১০:১৬ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

চেনা সেই ভোগান্তি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকার ক্লান্তি আর টিকিট কাটার অন্তহীন যুদ্ধ— সবকিছুকে ফাঁকি দিতে এবার একটু ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন রাজধানীবাসী। শেষ মুহূর্তের গাদাগাদি আর হুড়োহুড়ি এড়াতে সরকারি ছুটির ঘণ্টা বাজার আগেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। ব্যাগ-পত্র গুছিয়ে আগেভাগেই টার্মিনালে হাজির হওয়া এসব মানুষের চোখে-মুখে এখন শুধু একটাই স্বস্তি— ঝামেলামুক্তভাবে প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছানো। ফলে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে এখন থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফেরাতে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল মোড়ের ‘ক্লোভার লিফ ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভারের’ বগুড়া-রংপুরমুখী একটি গুরুত্বপূর্ণ র‌্যাম্প যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে চালু হওয়া এই র‌্যাম্প ব্যবহারে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের চাপ কিছুটা কমেছে। যদিও যমুনা সেতু ও পূর্ব পাড়ে টাঙ্গাইল অংশে যানজট, ধীরগতি এবং দুর্ঘটনার শঙ্কা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

যদিও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ঈদকে সামনে রেখে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে চ্যালেঞ্জিং হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করে। গতকাল শুক্রবার সকাল হতেই সেই ভিড় আরও প্রকট রূপ নেয়। অনেক চাকরিজীবী নিজে ঢাকায় থেকে গেলেও স্ত্রী-সন্তানদের ভোগান্তি থেকে বাঁচাতে আগেভাগেই বাসে বা ট্রেনে তুলে দিচ্ছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে কমলাপুর রেলস্টেশনেও। রেলপথে আজ শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের যাত্রা শুরু হলেও গতকাল শুক্রবারই কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড় ছিল। যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, অনলাইনে টিকিট পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রামগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে আগেভাগে রওনা হওয়ায় যাত্রীদের চোখে-মুখে শেষ মুহূর্তের সেই ক্লান্তির বদলে এক ধরনের স্বস্তি দেখা গেছে। লঞ্চ টার্মিনালগুলোতেও দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভিড় গত কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে অপেক্ষারত বেসরকারি চাকরিজীবী রবিউল আলম বলেন, ‘ছুটি শুরুর ঠিক আগের দিনগুলোতে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকতে হয়। বাসের টিকিট পাওয়াও যেন সোনার হরিণ। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে পরিবারকে আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমি ছুটির দিন রওনা দেব।’

স্কুল ছুটি হতেই ঘরমুখো মানুষ, ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা : এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ঈদের ছুটি শুরু হতেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। কমলাপুর রেলস্টেশনে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বন্ধু এবং পরিবারের সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কারও কাঁধে ব্যাগ, কারও হাতে ছিল উৎসবের নতুন জামাকাপড় ও জুতার প্যাকেট। বাড়ি ফেরার এই আনন্দের মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীকে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে দেখা গেছে।

দিনাজপুরগামী ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিলা হক বলেন, “সেমিস্টারের চাপের কারণে পরিবারের সবার সঙ্গে ঠিকমতো সময় কাটানো হয় না। ঈদের ছুটি আমাদের জন্য অন্যরকম অনুভূতির। বাড়ি ফেরার আনন্দটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”

‘টিকিট অনেক কষ্টে পেয়েছি। তারপরও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারব, এটাই বড় আনন্দ। বাচ্চাদের স্কুল ছুটি, তারাও অনেক খুশি।’ বলছিলেন ময়মনসিংহগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম।

এদিকে তীব্র গরমে কাঁধে ব্যাগ, সন্তানসহ ঘরমুখো যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে ব্যস্ততা। তবুও শিশুদের চোখেমুখে আনন্দ। বাড়ির পথে রওনা দিয়ে বড়দের মনেও স্বস্তি। যাত্রীরা জানান, শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়াতে আগে আগেই বাড়ির দিকে রওনা হয়েছেন তারা। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, অনলাইনে টিকিট প্রাপ্তিতে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। এবার ঈদে ১০টি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা শুরু হবে ২৪ মে থেকে। ছাদে যাত্রীদের উঠতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান স্টেশন ম্যানেজার।

কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার কবীর উদ্দীন জানান, সারাদিন ৪৩টি আন্তঃনগর এবং ২৩টি কমিউটার ট্রেন কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে সড়কপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বাস টার্মিনালে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের তৎপরতা দেখা গেছে। এ দিন ভিজিল্যান্স টিম টিকিট কাউন্টারে গিয়ে রুট অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়ার স্টিকার ঝুলিয়ে দেয়। রুট অনুযায়ী প্রতিটি পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় সরকার। গাবতলী বাস টার্মিনালে বাস ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। তবে পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি, কদিন আগেও বাস ভাড়া কম নিলেও এখন বেশি নিচ্ছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তের হুড়োহুড়ি এড়াতে অনেকেই এবার সচেতনভাবে আগেভাগে টিকিট কেটে রেখেছেন। তবে যাত্রীদের এই আগাম যাত্রার কারণে মহাসড়কগুলোতে এখনই গাড়ির চাপ বাড়তে শুরু করেছে।

হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে করে আগেভাগে ঢাকা ছাড়া এই মানুষদের যাত্রা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই সম্পন্ন হয়।

চ্যালেঞ্জিং হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে : আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে চ্যালেঞ্জিং হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম এমপি।

গতকাল কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দেশের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই ঈদযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সবার সহযোগিতা, জনসচেতনতা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। চালকদের অদক্ষতা, আনফিট যানবাহন ও জনগণের অসচেতনতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এসব কমিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার হারও কমে আসছে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোগান্তি   ঢাকা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close