দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মামলায় ইতোমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান বাদী হয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ নূর হোসেন হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার ১ নম্বর আসামি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আরাফাত হোসেন। এছাড়া ২ নম্বর আসামি হিসেবে একাউন্টিং বিভাগের তাসরিফ ইসলাম প্রান্তিক, ৩ নম্বরে এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নাঈমুর রহমান দুর্জয়, ৪ নম্বরে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের আসিফ হোসেন কাফি, ৫ নম্বরে গণিত বিভাগের সোহেল রানা, ৬ নম্বরে ইকোনমিক্স বিভাগের শাকির মাহমুদ এবং ৭ নম্বরে সামিউল ইসলাম শামসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা হল দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, পাইপ, হকিস্টিক, বাঁশের লাঠি ও গাছের ডাল নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের মারধর করে এবং হলের নামাজ ঘর, আসবাবপত্র, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সম্পত্তি ভাঙচুর করে। এতে করে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সংঘর্ষ থামাতে গেলে সহকারী প্রক্টর মো. মবিনুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী এহেসানুল কবীর অর্ণব হামলার শিকার হন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় সহকারী প্রক্টরের নাকে এবং অর্ণবের চোখের ভ্রুতে গুরুতর জখম হয়। পরে আহতদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামি—আসিফ হোসেন কাফি, সোহেল রানা, শাকির মাহমুদ ও সামিউল ইসলাম শামসকে গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোন কেটে দেন।
মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার জায়গা। এখানে কেউ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করবে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাবে কিংবা অন্যদের ভয়ভীতি দেখাবে— তা মেনে নেওয়া হবে না। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”
অন্যদিকে, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শহীদ আবরার ফাহাদ হলের ৩১ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোষীদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিও জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
কেকে/এজে