রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু অস্থায়ী পশুর হাট—যা নিয়ে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা।
বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় বসা এসব অস্থায়ী হাটে নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই থানা পুলিশও এসব হাট সম্পর্কে অবগত নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো—রায়েরবাজার, বেড়িবাঁধ ভাঙা মসজিদের পাশে সিটি করপোরেশনের জনতা বাজার এলাকা, চন্দ্রীমা মডেল টাউন, ঈদগাঁ মাঠ, আদাবর মনসুরাবাদ, নবোদয় বাজার, সুনিবিড় হাউজিং সোসাইটি হাউজিং এবং শেরেবাংলা নগর এলাকার বিভিন্ন স্থান।
এসব হাটে গরু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। অস্থায়ী এসব পশুর হাটে ব্যবসায়ীরা কতটা নিরাপদ এমন প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানিয়েছেন, রাজধানীতে কোনো অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়নি। যেসব হাট টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে, কেবল তারাই বৈধভাবে হাট পরিচালনা করতে পারবে।
পেশাজীবীদের প্রশ্ন—কোনো গরু ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায়ভার কে নেবে? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় এসব হাট বসানো হয়েছে। এলাকাভিত্তিক কিছু প্রভাবশালী নেতা নিজেদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এসব অস্থায়ী হাট পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও মোহাম্মদপুরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুল ফালা মাদ্রাসার ভেতরের খালি জায়গায় গরুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি সেখানে হাট বসিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও এই প্রতিনিধির হাতে এসেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা ধরনের মন্তব্য করেন। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কীভাবে পশুর হাট পরিচালিত হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা জানান, মোহাম্মদপুর এলাকা এমনিতেই অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে আসা এবং লেনদেন হওয়া গরু ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ফিরতে পারবেন কিনা—তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান খোলা কাগজকে মুঠোফোনে বলেন, “আপনার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে জানতে পেরেছি, মোহাম্মদপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। বর্তমানে কোনো হাট নেই। কিছুক্ষণ আগে পুলিশ পাঠিয়ে সব অস্থায়ী পশুর হাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। আপাতত বন্ধ রয়েছে। এরপরও যদি কেউ ঝুঁকিপূর্ণভাবে অস্থায়ী হাট বসানোর চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে—কোথাও কোনো অস্থায়ী পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না।”
কেকে/এজে