মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ট্রাক্টরের সঙ্গে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগান এলাকার রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রেলক্রসিংয়ে সময়মতো গেট না ফেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রাক্টর চালক আব্দুল কাইয়ুম টিটু (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে অস্থায়ী গেটম্যান ইমরুল পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাক্টরটি পুরোপুরি রেললাইনের মাঝখানে চলে না যাওয়ায় অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। ট্রাক্টরটি যদি রেললাইনের মাঝখানে চলে যেতো তাহলে কালনী এক্সপ্রেস ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ার শঙ্কা ছিল।
সরজমিনে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় ট্রাক্টরটির সামনের ইঞ্জিন অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে পেছনের মালবাহী অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে শ্রমিক পরিবহনের উদ্দেশ্যে ট্রাক্টর নিয়ে ভাড়াউড়া চা বাগানের দিকে যাচ্ছিলেন চালক টিটু। ট্রাক্টরটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস এসে ট্রাক্টরকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাক্টরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক গুরুতর আহত হন।
ইস্পাহানি জেরিন চা বাগানের উপ-মহাব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, ‘জেরিন চা বাগান থেকে চা শ্রমিক পরিবহনের পথে ট্রেনের সঙ্গে ট্রাক্টরের সংঘর্ষ হয়। চালক দ্রুত লাফিয়ে পড়ায় প্রাণে রক্ষা পেলেও আহত হন। পরে তাকে প্রথমে বাগানের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
রেলওয়ের সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অস্থায়ী গেটম্যান ইমরুলকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ট্রাক্টরটি যদি রেললাইনের মাঝখানে আটকে যেত, তাহলে ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতো। সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’
কেকে/এমএ