ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স অলিম্পিয়াড কনটেস্ট (আইএসওসি) ও ইন্টারন্যাশনাল ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ডস অলিম্পিয়াড (আইবিএমও) ২০২৬’-এর অধীনে আয়োজিত ব্রিলিয়ান্ট ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশন (বায়ন) ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ঢাকার সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আজমাইন ইকতিদার শাহেদ।
প্রতিযোগিতায় প্রিলিমিনারি ও ফাইনাল রাউন্ড—উভয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিযোগী ছিল আজমাইন।
প্রতিযোগিতায় তার অর্জনগুলো হলো ইংলিশ লেভেল-২ বিভাগে গোল্ড মেডেল; সায়েন্স লেভেল-২ বিভাগে সিলভার মেডেল ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অনারেবল মেনশন-২।
গত ১৯ এপ্রিল প্রতিযোগিতার প্রিলিমিনারি রাউন্ড ও ৩০ এপ্রিল ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। প্রিলিমিনারি রাউন্ডে অংশগ্রহণকারী বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগীর মধ্য থেকে নির্বাচিত সেরা ১০০ জন ফাইনাল রাউন্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে। আজমাইন প্রিলিমিনারি রাউন্ডে টপ-৩’-এর মধ্যে স্থান অর্জন করে ফাইনাল রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হয়। ফাইনাল রাউন্ডে ইংলিশ লেভেল-২ বিভাগে ৯০০ নম্বর অর্জন করে গোল্ড মেডেল লাভ করে সে। একইভাবে সায়েন্স লেভেল-২ বিভাগেও ৯০০ নম্বর অর্জন করে সিলভার মেডেল অর্জন করে। বিভিন্ন বিভাগে সামগ্রিক ফলাফলের ভিত্তিতে অনারেবল মেনশন-২ সম্মাননায় ভূষিত হয় আজমাইন।
মো. আজমাইন ইকতিদার শাহেদ
আজমাইন জানায়, আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পেরে আমি আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি। এই অর্জন আমার পরিবার, শিক্ষকবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অব্যাহত সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার ফল। আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। একই সঙ্গে সকলের কাছে দোয়া ও শুভকামনা প্রার্থনা করছি, যেন ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে আরও বৃহত্তর সাফল্য অর্জন করতে পারি।
প্রসঙ্গত, আইবিএমও হলো প্যাটেরন ইন্দোনেশিয়া কর্তৃক আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক মর্যাদাসম্পন্ন একাডেমিক অলিম্পিয়াড। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, একাডেমিক উৎকর্ষ, সৃজনশীল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা প্রদর্শনের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা অর্জন করে মূল্যবান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল স্টেম অলিম্পিয়াড, ইউরোপিয়ান অলিম্পিয়াড এবং ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স অলিম্পিয়াড ফেডারেশনের (আইএসওএফ) সম্পৃক্ততা ছিল, যা এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।