শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
শিরোনাম: ডিএমপির ৭ কর্মকর্তাকে বদলি      ভারতের অরুণাচল প্রদেশে একসঙ্গে ১৫ মসজিদ সিলগালা      বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ      দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও পদ্মায় পড়ে গেছে বাস      ফাঁকা বাজারেও চড়া দাম      বহুমাত্রিক চাপে অর্থনীতি      ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিতে ঢাকাসহ ৪ জেলা      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
জিয়াউর রহমানকে কেন পছন্দ করি (পর্ব-১)
মো. কামরুল হাসান উজ্জল
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বর্তমানে আমি সবকিছুর মধ্যেই মহান সৃষ্টিকর্তা ও ধর্মের এক গভীর ব্যাখ্যা খুঁজে বেড়াই। মানুষ নিজের মতো করে পরিকল্পনা করে, কিন্তু মানুষকে নিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তারও একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে। এই প্রসঙ্গটি আমি পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনায় নিয়ে আসব। ঠিক কবে বা কখন থেকে আমি প্রথম এভাবে ভাবতে শুরু করেছি, তা সুনির্দিষ্টভাবে স্মরণ করতে না পারলেও বিষয়টি আমাকে দীর্ঘদিন ধরে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। এই ভাবনার শুরু অনেক আগে থেকেই, যা আজও আমার মনে বহমান। ঠিক কী সেই ভাবনা? হ্যাঁ, সেটাই বলার জন্য আমার এই লেখার অবতারণা, যার পেছনে রয়েছে একটি চমৎকার পটভূমি।

আমি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ছাত্র ছিলাম, ১৯৯০ সালের এইচএসসি ব্যাচের। আমাদের এইচএসসির ক্লাস হতো কলেজের পুরাতন ভবনে। আর আমার বাসা ছিল কলেজের নতুন ভবনসংলগ্ন কামারগাড়ী এলাকায়। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর থেকেই নতুন ভবনে নিয়মিত যেতাম এবং মাঝে মাঝে মিছিলে অংশ নিতাম। তখন ঠিক কী কারণে মিছিল করতাম, তা স্পষ্টভাবে বুঝতাম না, তবে মিছিলে অংশ নিতে বেশ ভালো লাগত। প্রশ্ন আসতে পারে, কোন দলের মিছিল করতাম? অবশ্যই সেটি ছিল ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’। ওই সময়ে খাইরুল ভাই, সাইফুল ভাই ও হিরু ভাই ছিলেন আমাদের স্থানীয় নেতা। সাইফুল নামে আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিল, যাকে এইচএসসি পরীক্ষার পর হারিয়ে ফেলেছি এবং আজ পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাইনি। দল হিসেবে ছাত্রদলকে বেছে নেওয়ার পেছনে আমার বাবার একটি পরোক্ষ প্রভাব ছিল। বাবা আমাকে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “আওয়ামী লীগ করা যাবে না।” কেন আওয়ামী লীগ করা যাবে না, তার এক বিশাল বর্ণনা তিনি আমাকে দিয়েছিলেন। বাবার সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভবিষ্যতে একটি আলাদা নিবন্ধ লেখার ইচ্ছা আমার রয়েছে।

আজিজুল হক কলেজে আমার সমসাময়িক পরিচিত দুজন বান্ধবী ছিল। তাদের একজন জাতীয় পার্টি এবং অন্যজন আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক ছিল। মাঝে মাঝেই তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা হতো। তর্কের সময় তারা প্রায়ই আমাকে একটি কথা বলে দুর্বল করার চেষ্টা করত যে, তাদের দলটি অনেক পুরোনো, তাদের বিশাল ঐতিহ্য ও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তখন আমিও তাদের কাউন্টার দেওয়ার জন্য বলতাম, “সেই পুরোনো দলটিকে টক্কর দেওয়ার জন্যই তো আমার দলের জন্ম।” কিন্তু মুখে বললেও তখনও কোনো বাস্তব প্রমাণ আমি দিতে পারছিলাম না। অবশেষে এলো ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের আগে আমার মনে এক ধরনের শঙ্কা ও ভয় কাজ করছিল যে, কী জানি হয়! কারণ ওদের দলটা পুরোনো, ঐতিহ্যবাহী এবং ইতিহাসও দীর্ঘ; তার ওপর তাদের প্রচারণামূলক ‘চাপা’র জোরও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলের পর আমার গলার জোর অনেকটাই বেড়ে গেল।

এরই মাঝে একদিন আবার তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হলো। সুযোগ পেয়ে আমি বুক ফুলিয়ে বললাম, “পুরোনো পার্টি, ঐতিহ্য আর ইতিহাস দিয়ে কিচ্ছু হয় না; রাজনীতিতে লাগে আদর্শ, যে আদর্শ শুধু আমার নেতার রয়েছে।” ব্যস, শুরু হয়ে গেল তুমুল ঝগড়া! ত্রিমুখী সেই লড়াইয়ে আমি ছিলাম বিএনপির পক্ষে, এক বান্ধবী জাতীয় পার্টির এবং অন্যজন আওয়ামী লীগের পক্ষে। তাদের কথার তোড়ের সঙ্গে যখন পারছিলাম না, তখন রাগের মাথায় জাতীয় পার্টির সমর্থক বান্ধবীকে বলে বসলাম, “তোর যেন এরশাদের মতো চরিত্রের লোকের সঙ্গে বিয়ে হয়!” তারপর বললাম, “বল আমিন।” সে তো কিছুতেই আমিন বলল না। এরপর যে আওয়ামী লীগ করত, তাকে বললাম, “তোর যেন মুজিবের চরিত্রের মতো লোকের সঙ্গে বিয়ে হয়!” তাকেও বললাম, “বল আমিন।” সেও রেগে আগুন, কিছুতেই আমিন বলল না। শেষ পর্যন্ত তারা দুজনেই আমাকে বলল, আমি যেন তাদের জন্য এমন ‘দোয়া’ আর কখনো না করি। এরপর তারা দুজনে উল্টো আমাকে প্রশ্ন করল, “তুই কি জিয়ার মতো হতে চাস নাকি?” আমি তাৎক্ষণিক উত্তর দিলাম, “অবশ্যই! অবশ্যই! আমি চাই আমার বংশধররাও যেন জিয়ার মতো আদর্শবান হয়।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সময় থেকেই আমার কাছে এক গভীর গবেষণার বিষয়। যখন দেখলাম, মাত্র সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় থাকা একজন ব্যক্তির গড়া দল কীভাবে আওয়ামী লীগের মতো একটি প্রাচীন ও অভিজ্ঞ দলকে মাঠে-ঘাটে টক্কর দিচ্ছে এবং ঝানু ঝানু রাজনীতিবিদদের সমান্তরালে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে, তখন থেকেই আমার কৌতূহল বাড়তে থাকে। মাত্র সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। কী এমন জাদুকরী শক্তি ছিল মেজর জিয়ার মধ্যে, যিনি ১৯৭১ সালে দৃপ্ত কণ্ঠে বলতে পেরেছিলেন—“আই, মেজর জিয়া, ডু হেয়ারবাই ডিক্লেয়ার...”। কী ছিল বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের মধ্যে? কী ছিল জেনারেল জিয়া কিংবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাঝে? এটি সত্যিই এক পরম চিন্তার বিষয়। তাঁর জীবনের প্রতিটি পর্যায় অর্থাৎ—মেজর জিয়া, মুক্তিযুদ্ধের বীর উত্তম জিয়া, জেনারেল জিয়া এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান—প্রত্যেকটি অধ্যায় নিয়ে বিস্তর প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণা করা আমার কাছে তখনও যেমন জরুরি মনে হতো, এখনও ঠিক তেমনই মনে হয়।

আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ও সীমাবদ্ধ জ্ঞানে আমি কিছু বিষয় অনুধাবন করতে পেরেছি, যার কারণে মাত্র অল্পদিন ক্ষমতায় থাকা একটি মানুষের আদর্শে গড়া দল দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও জটিল রাজনৈতিক দলের সমকক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার লেখার মূল বিষয়বস্তুও সেটিই। আমি আজ এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যা প্রচলিত আলোচনার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। আমি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রাপ্ত প্রতিটি মানদণ্ড নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

আসলে এক কেজির একটি বাটখারা দিয়ে কি পাঁচশত কেজির একটি পাথর পরিমাপ করা সম্ভব? কখনোই সম্ভব নয়। জিয়াউর রহমানের বিশালত্বের তুলনায় আমার এই সাধারণ মস্তিষ্কটি এক কেজির বাটখারার মতোই ক্ষুদ্র। তারপরও এটি আমার একটি বিনীত চেষ্টা মাত্র। আমি একজন বিজ্ঞানের ছাত্র। ‘পদার্থ’ ও ‘অপদার্থ’ বিষয় দুটি আমি বিজ্ঞানের আলোকেই ভালো বুঝি। যে বস্তুর নির্দিষ্ট গুণ ও ধর্ম থাকে, বিজ্ঞানের ভাষায় তা-ই পদার্থ; অর্থাৎ পদার্থের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, সুবিধা ও অসুবিধা থাকবে। আর যে বস্তুর কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা গুণ নেই, তা-ই অপদার্থ বা পদার্থের বিপরীত। আমাদের সমাজে ‘অপদার্থ’ শব্দটি একটি গালি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, বিজ্ঞানের ভাষায় এটি বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

মানবজাতির ক্ষেত্রে এই পদার্থ বা অপদার্থ শব্দের আক্ষরিক প্রয়োগ সঠিক নয়। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতি কোনো না কোনো ধর্মের ছায়াতলে আবৃত। পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সকল ধর্মেরই মূল কথা হলো ‘মানবকল্যাণ’। সহজ কথায় বলা চলে, মানবকল্যাণই হলো প্রকৃত ধর্ম। বস্তুর ধর্মের মতো মানুষেরও নিজস্ব কিছু আত্মিক ধর্ম রয়েছে। যে মানুষ এই পরম ধর্ম বা সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে, তাকে বলা হয় ‘আস্তিক’; আর যে সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে না, সে হলো ‘নাস্তিক’। আস্তিক শব্দের আরেকটি গভীর প্রতিশব্দ হলো ‘ধার্মিক’। আস্তিক ও ধার্মিক শব্দের ব্যবহারে সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেকোনো ধর্মের সকল ধার্মিক ব্যক্তিই মূলত আস্তিক, কিন্তু সব আস্তিক ব্যক্তিই প্রকৃত অর্থে ধার্মিক নাও হতে পারেন। আস্তিকতার বিষয়টি থাকে মানুষের মনে ও প্রাণে—যা অদৃশ্য। আর ধার্মিকতার ক্ষেত্রে এই মানসিক বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত হয় কিছু দৃশ্যমান ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও অনুশাসন পালন।

মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করাই সৃষ্টির সেরা ধর্ম। সৃষ্টিকর্তার প্রতি এই আনুগত্য প্রকাশের জন্যই মানুষ ধর্মকে আঁকড়ে ধরে। যারা সৃষ্টিকর্তাকে মেনে চলে তারা আস্তিক, আর যারা মানে না তারা নাস্তিক। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত মানবধর্মের অন্যতম মূল লক্ষ্যই হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা। এই মানবকল্যাণের কাজ নাস্তিকরাও করতে পারে, আবার আস্তিকরাও করে। তবে নাস্তিকরা তাদের ভালো কাজের পুরস্কার ও খ্যাতি এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অবস্থাতেই পেয়ে যায় এবং মৃত্যুর পর দলবলসহ একসময় ইতিহাস থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু আস্তিক বা ধার্মিক মানুষেরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাদের আদর্শ ও কল্যাণময় কাজ মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু যে একজন আস্তিক ছিলেন তা নয়, তিনি ছিলেন একজন খাঁটি ধার্মিক মানুষ। এদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত ধর্মভীরু ছিলেন। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবনে একজন আস্তিক ও ধার্মিক মানুষের গুরুত্ব অপরিসীম। শহীদ জিয়া ইসলাম ধর্মের একজন নিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে তাঁর ওপর অর্পিত প্রতিদিনের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় বিধান ছিল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তেন। একজন রাষ্ট্রপতির শত ব্যস্ততা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মাঝেও প্রতিদিন নিয়ম মেনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হলেও তিনি কখনো ধর্মকে ভুলে যাননি।

এই আস্তিকতা, ধার্মিকতা ও ঈশ্বরভীতি মানুষের ভেতরের সাহসিকতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে মানুষের মনে নির্ভীকতা, বলিষ্ঠতা, সততা ও নৈতিকতার এমন এক শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে, যা একজন ব্যক্তিকে একদিকে করে বিনয়ী, অন্যদিকে দেয় হিমালয়ের মতো বিশালত্ব ও লোহার মতো দৃঢ়তা। শহীদ জিয়া ঠিক এই সততা ও নৈতিকতা দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি তাঁর এই গভীর আনুগত্যের কারণেই রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি সবসময় সৃষ্টিকর্তার এক অদৃশ্য রহমতের চাদরে আবৃত ছিলেন। মহান সৃষ্টিকর্তা মানবকল্যাণে নিয়োজিত বান্দাদের প্রতি বরাবরই সদয় থাকেন। মানবকল্যাণে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃত ধার্মিক হন, তবে তাঁর সৎ কাজের প্রতিদান যুগ যুগ ধরে চলমান থাকে।

আমার মনে এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে—ধর্মভীরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি সেই নিঃশর্ত আনুগত্যের কারণেই আজ এত ঝড়-ঝাপটা ও জুলুমের পরেও আওয়ামী লীগের মতো প্রাচীন দলের বিপরীতে পাহাড়ের ন্যায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’।

জিয়াউর রহমানের এই আস্তিকতা, ধার্মিকতা ও খোদাভীতির পুরস্কার মহান সৃষ্টিকর্তা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিলেন বলেই ১৯৭১ সালের সেই ক্রান্তিলগ্নে তাঁকে দিয়ে “আমি মেজর জিয়া বলছি” বলিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। লেখার শুরুতেই আমি বলেছিলাম, “মানুষ পরিকল্পনা করে দুনিয়া নিয়ে, আর মানুষকে নিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তারও একটি পরিকল্পনা থাকে।” মহান সৃষ্টিকর্তা ভূত-ভবিষ্যৎ সবকিছুই জানেন। অত্যাচারী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ পরবর্তীতে যাদের হাতে পড়ার কথা ছিল, তারা ছিল মূলত এক অত্যাচারী, মিথ্যার আশ্রয়ী, অসৎ, অযোগ্য ও মানবকল্যাণবর্জিত শাসকশ্রেণি। এই অযোগ্য ও অসৎ শ্রেণির বিপরীতে একটি যোগ্য, সৎ ও সত্যবাদী নেতৃত্ব মহান সৃষ্টিকর্তাই নির্ধারণ করেছিলেন। আর সেই কারণেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি অনুগত ও ধর্মপ্রাণ জিয়াকে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল।

শুধু কি তাই? ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমেও সৃষ্টিকর্তা এ ধর্মপ্রাণ জিয়াকেই সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে দেশ চালনার দায়িত্বে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। একটিবার যদি ভেবে দেখেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান যদি দেশের হাল না ধরতেন, তবে এই বাংলাদেশের পরিণতি কী হতো?

আজকে বিএনপির গভীরতা নিয়ে কে কী সমালোচনা করল, তা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিএনপির প্রকৃত গভীরতা বুঝতে হলে আগে মেজর জিয়াকে বুঝতে হবে; বুঝতে হবে বীর উত্তম জিয়া, জেনারেল জিয়া এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। সর্বোপরি, বিএনপির আসল শক্তি ও শিকড় বুঝতে হলে আস্তিক, ধার্মিক ও ধর্মভীরু জিয়াকে অন্তর দিয়ে অনুভব করতে হবে। কোনো নাস্তিক বা সংকীর্ণ মনোভাব নিয়ে বিএনপি ও এর গভীরতা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শের মূল ভিত্তি বুঝতে হলে আস্তিকতা, ধার্মিকতা ও ধর্মভীরুতার মূল্যায়ন করা জরুরি, অন্যথায় জিয়ার দর্শনের গভীরতা কখনোই অনুধাবন করা যাবে না।

লেখক : প্রকৌশলী, ভাইস চেয়ারম্যান, ঢাকা সেন্টার, আইইবি, ঢাকা


আরও সংবাদ   বিষয়:  জিয়াউর রহমান   সংগ্রাম   সাহস  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close