লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী মোগলহাট স্থলবন্দর ও রেল সংযোগটি চার দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা শুধু একটি আঞ্চলিক অবহেলা নয়, বরং সমগ্র দেশের অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সম্ভাবনার জন্য এক বিরাট অপচয়।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের (বিবিআইএন) চারদেশীয় বাণিজ্যিক কানেক্টিভিটির যুগে এসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ এমনভাবে অবৈধ দখলের গ্রাসে হারিয়ে যাবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় ধরলা নদীর ওপর নির্মিত সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরে ১৯৯৫ সালে রুটটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হওয়ার পর গত ৩০ বছরেও তা পুনরুজ্জীবিত করার কার্যকর উদ্যোগ না থাকা প্রশাসনিক উদাসীনতারই স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
বর্তমানে যখন বুড়িমারী স্থলবন্দরের ওপর সীমান্ত বাণিজ্যের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তখন মোগলহাট রুটটি চালু করা শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং সময়ের এক জরুরি দাবিতে পরিণত হয়েছে। ভারতের গীতালদহ ও আসামের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসারে এ রুটের ভূমিকা অপরিসীম। সরকারি সমীক্ষা ও ২০২১ সালে ভুটানের প্রতিনিধি দলের ইতিবাচক মূল্যায়নের পর আর কোনো কালক্ষেপণ করার সুযোগ নেই। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থে সরকারের অবিলম্বে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
সর্বপ্রথম মোগলহাট থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত দীর্ঘ রেললাইনের ওপর স্থায়ী-অস্থায়ী বসতবাড়ি, দোকানপাট ও খামার তৈরি করে অবৈধ দখলের যে উৎসব চলছে, তা অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে। রেলওয়ের মূল্যবান জমি সুরক্ষায় শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করে প্রশাসনিক অভিযান জোরদার করা দরকার। পাশাপাশি, ধরলা নদীর ওপর ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ সেতু এবং বাংলাদেশ অংশের জরাজীর্ণ রেল অবকাঠামো দ্রুততম সময়ে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। ওপারে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে তাদের অংশের সংযোগ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
সবশেষে, শুধু পরিকল্পনা ও সরেজমিন পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর বাজেট বরাদ্দ ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে স্থলবন্দরের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা আবশ্যক। উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে মোগলহাট রুট পুনরুজ্জীবিত করার কোনো বিকল্প নেই। সরকার অবিলম্বে এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবেএটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
কেকে/ এমএস