ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় চিহ্নিত এক মাদক বিক্রেতার উপর্যপরি ছুরাঘাতে জাহাঙ্গীর আলম (৩২) নামে যুবক গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুশয্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার আঠারবাড়ী এলাকায় ছুরিকাঘাতের এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার (৬ জুন) পর্যন্ত আহত জাহাঙ্গীর আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মামলা করায় আহত যুবকের পরিবার রয়েছে নিরাপত্তাহীনতায়।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আঠারবাড়ি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায় মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম (৩৫) দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসায় করে আসছে। ইয়াবা বড়ির বিক্রির ডিলার হিসাবে তিনি ব্যাপক পরিচিত। সবসময় থাকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় শরিফুল ইয়াবা বড়ি নিয়ে ক্রেতার খোঁজ করলে এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে দুইটি ইয়াবা বড়ি দিয়ে কিছু দূরে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। জাহাঙ্গীর অনিহা প্রকাশ করে। তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে জাহাঙ্গীরকে মারধরের হুমকি দিয়ে ধাওয়া করে শরিফুল।
কিছু দূর একটি দোকানের সামনে গিয়ে ধারালো ছুরা দিয়ে জাহাঙ্গীরের পেটে ও পিঠে আঘাত করে। ওই সময় জাহাঙ্গীরের পেটের ভুঁড়ি বের হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে তিনি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরের মা তাহমিনা বেগম বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী শরিফ আমার ছেলেসহ অনেককেই নষ্ট করেছে। তার কথা না শুনলেই ক্ষিপ্ত হয়। আমার ছেলেকে দিয়ে ব্যবসায় করাতে না পারায় হত্যার চেষ্টা করে। আমি এর বিচার চাই।’
আঠারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবের আলম রূপক বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ পেছন দিকে তাকিয়ে দেখি, শরিফ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার দাবি করছি।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘মামলায় অভিযুক্ত ইমন ও রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
কেকে/এমএ