নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাটে যাত্রী ও নৌযান থেকে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগের পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। অভিযোগ পর্যালোচনা করে নির্ধারিত রেটচার্ট অনুযায়ী টোল ও বিভিন্ন চার্জ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবালের সভাপতিত্বে এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন, বিআইডব্লিউটিএ হাতিয়া উপকূলীয় নদীবন্দরের সহকারী পরিবহন পরিদর্শক মো. মাছুম বিল্লাহ, চেয়ারম্যানঘাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম, ঢালচর ও চর ঘাসিয়া ইজারাদার মো. রিয়াজ উদ্দিন প্রমুখ।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঘাট টিকিট, জলযানের বোর্ডিং চার্জসহ অন্যান্য সব ধরনের চার্জ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত রেটচার্ট অনুযায়ী আদায় করতে হবে। যাত্রীপ্রতি নির্ধারিত পাঁচ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। স্পিডবোটের বোর্ডিং চার্জও নির্ধারিত রেটচার্ট অনুযায়ী আদায় করা বাধ্যতামূলক। তবে ট্রলারে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা আদায় করা যাবে না।
চেয়ারম্যানঘাটের ইজারাদার চর ঘাসিয়া ও চালচর এলাকায় নিজস্ব জলযান পরিচালনা করতে পারবেন। নির্ধারিত রুটে নৌযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও সভায় সময়সূচি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চেয়ারম্যানঘাটের ইজারাদার সকাল ১১টায় চেয়ারম্যানঘাট থেকে এবং উপজেলা পরিষদের পক্ষের ইজারাদার দুপুর ১টায় চেয়ারম্যানঘাট থেকে নৌযান ছাড়বে। একইভাবে চর ঘাসিয়া ও চালচর ঘাট থেকে উপজেলা পরিষদের ইজারাদার সকাল ১১টায় এবং চেয়ারম্যানঘাটের ইজারাদার দুপুর ১টায় চেয়ারম্যানঘাটের উদ্দেশ্যে নৌযান ছেড়ে আসবে।
রাসেল ইকবাল বলেন, ‘যাত্রীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত রেটচার্টের বাইরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা কাউকে না দেওয়ার জন্য যাত্রীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত হারের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদেরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত রেটের অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে তা না দিয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘাট এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত রেট অনুযায়ী টোল ও অন্যান্য চার্জ আদায় এবং সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
কেকে/এআই