ঢাকার সাভার উপজেলার তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানার মোট ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ও আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং জনভোগান্তি দেখা দেয়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ করা হয়।
শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে শনিবার সকালে কর্মস্থলে এসে অনেক শ্রমিক জানতে পারেন, তাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। কেউ কারখানায় ঢুকতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ছাঁটাই সংক্রান্ত বার্তা পান। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সকাল ৮টার দিকে কয়েক শত শ্রমিক উলাইল এলাকায় অবস্থিত একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেন অবরোধ করেন। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার থেকে ৫২৯ জন ও আল-মুসলিম অ্যাপারেলস থেকে ৫৩ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেন।
তাদের ভাষ্য, চাকরি হারানোর পাশাপাশি আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তারা এবং পরিবার নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন।
আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক মন্দার কারণে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুসরণ করে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী বকেয়া ও প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি দাবিগুলো যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করা হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ ও সাধারণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কারখানার সামনে জলকামান ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়।
শিল্প পুলিশ-১’-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।’
কেকে/এমএ