বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, তফসিল ঘোষণা      সরকারকে ব্যর্থ করতে একটি দল চক্রান্ত করছে: রিজভী      জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের সংগ্রামের পরিণতি: আইনমন্ত্রী      হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১০৮৩      পদত্যাগের শেষ মুহূর্তেও আন্দোলনের পরিস্থিতি জানতে চেয়েছিলেন হাসিনা      জুলাই জাদুঘর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণার কেন্দ্র : ড. ইউনূস      জ্বালানি সংকটে ভুগবে সরকার      
খোলাকাগজ স্পেশাল
পোল্ট্রিখাতের টেকসই উন্নয়নে আমাদের গবেষণা এক নতুন দিগন্তের সূচনা
মো. শরিফ শেখ, সাভার (ঢাকা)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম আপডেট: ০৬.০৮.২০২৬ ৩:৩৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ ছিল ‘পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্প’। সম্প্রতি এই মেগা প্রকল্পটি সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। প্রকল্পের সামগ্রিক সাফল্য, অর্জন এবং দেশের পোল্ট্রিখাতের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেছেন এই সফল প্রকল্পের পরিচালক এবং দেশের বিশিষ্ট প্রাণিপুষ্টি বিজ্ঞানী ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন খোলা কাগজের সাভার  প্রতিনিধি মো. শরিফ শেখ।

মো. শরিফ শেখ: সম্প্রতি আপনার প্রকল্পটি সফলভাবে শেষ হলো। এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কেমন?

ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার: অনুভূতি এক কথায় অসাধারণ। যেকোনো বড় কাজের সফল সমাপ্তি সবসময়ই আনন্দের। এই প্রকল্পটি কেবল একটি সরকারি অ্যাসাইনমেন্ট ছিল না, এটি ছিল দেশের পোল্ট্রিখাতকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও স্বনির্ভর করার একটি জাতীয় মিশন। মাঠ পর্যায়ের খামারি থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমার পুরো গবেষণা দলের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছি। এই সফলতায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

মো. শরিফ শেখ: সদ্য সমাপ্ত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী ছিল এবং আমরা কতটা অর্জন করতে পেরেছি?

ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার: আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল পোল্ট্রির উন্নত জাত উদ্ভাবন, দেশীয় জাতের সংরক্ষণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং পোল্ট্রির পুষ্টি ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা। আনন্দের বিষয় হলো, আমরা শতভাগ সফল। এই প্রকল্পের অধীনে আমরা পোল্ট্রির নতুন উচ্চ উৎপাদনশীল জাত বা স্ট্রেইন উদ্ভাবন করতে পেরেছি, যা খামারিদের খাদ্য খরচ কমিয়ে অধিক মাংস ও ডিম উৎপাদনে সাহায্য করবে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে সৈয়দপুরে বিএলআরআই এর একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। যেখানে পোল্ট্রিসহ অন্যান্য প্রানি নিয়েও গবেষণা চলমান রয়েছে । যার ফলে প্রান্তিক খামারিরা এখন সরাসরি আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পাচ্ছেন।

মো. শরিফ শেখ: গবেষণার পাশাপাশি খামারিদের দক্ষতা উন্নয়নে এই প্রকল্প কী ভূমিকা রেখেছে?

ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার: প্রযুক্তি বা জাত কেবল ল্যাবরেটরিতে রাখলে দেশের লাভ নেই, একে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। প্রকল্পের আওতায় আমরা দেশজুড়ে প্রায় ১৮টি ব্যাচে ৪ হাজার ২৫০ জনেরও বেশি খামারি এবং নতুন উদ্যোক্তাকে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা ও বায়োসিকিউরিটি বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা এখন বৈজ্ঞানিক উপায়ে খামার পরিচালনা করছেন, যা তাদের লাভবান করার পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

মো. শরিফ শেখ: পোল্ট্রি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে আপনাদের বিশেষ কোনো উদ্ভাবন বা কাজ ছিল কি?

ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার: হ্যাঁ, এটি আমাদের অন্যতম বড় একটি সাফল্য। পোল্ট্রির বর্জ্য বা বিষ্ঠা পরিবেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই প্রকল্পের অধীনে আমরা পোল্ট্রি বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন ও পরিবেশবান্ধব সার তৈরির কার্যকর মডেল নিয়ে গবেষণা করেছি। এছাড়া, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমিয়ে কীভাবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি পালন করা যায়, সেই পুষ্টিগত ফর্মুলা আমরা খামারিদের দিতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের মানুষের জন্য 'নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ' নিশ্চিত করা।

মো. শরিফ শেখ: আমরা শুনেছি, এই প্রকল্পের আওতায় বিকল্প ও নতুন সম্ভাবনা হিসেবে 'উটপাখি' (অস্ট্রিচ) নিয়েও গবেষণা হয়েছে। এই বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?

ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার: চমৎকার একটি বিষয় মনে করিয়েছেন। আমরা প্রকল্পের আওতায় আফ্রিকা থেকে উটপাখি এনে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সেগুলোর অভিযোজন ও প্রজনন সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা করেছি। বাংলাদেশে বিকল্প মাংসের উৎস এবং বাণিজ্যিক পোল্ট্রিতে এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। আমাদের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ডেটা ভবিষ্যতে দেশে উটপাখি পালনের বাণিজ্যিক দিকনির্দেশনা তৈরিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে বিএলআরআই এর পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের অধীনে উটপাখি নিয়ে পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম। তিনি হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। তার এই পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে আমার তত্ত্বাবধানে। বলতে পারেন এটাও প্রকল্পের একটি সফলতা।

মো. শরিফ শেখ: প্রকল্প তো শেষ হলো, কিন্তু এই অর্জিত সাফল্যগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে ধরে রাখা হবে?

ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার: প্রকল্প শেষ হওয়া মানেই কিন্তু গবেষণা শেষ হওয়া নয়। প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা যে শক্তিশালী অবকাঠামো, আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং দক্ষ গবেষক দল তৈরি করেছি, তা আজীবন বিএলআরআই এর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্পদ হয়ে থাকবে। আমরা যে নতুন জাত বা প্রযুক্তিগুলো ভ্যালিডেশন করেছি, সেগুলো এখন সরকারের সম্প্রসারণ উইং (যেমন: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর) এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ফলে এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

মো. শরিফ শেখ: দেশের পোল্ট্রি খাতের ভবিষ্যৎ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?

ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার: পোল্ট্রিখাত প্রধান বাণিজ্যিক খাত এবং এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। নতুন যারা এই খাতে আসতে চান, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ অনুমানের ওপর ভিত্তি করে খামার না করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন। বিএলআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত কম খরচের ফিড ফর্মুলেশন এবং বায়োসিকিউরিটি গাইডলাইন মেনে চললে লোকসানের কোনো সুযোগ নেই। সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়ে এগিয়ে আসলে পোল্ট্রি খাতই হবে তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

মো. শরিফ শেখ: আপনার মূল্যবান সময় এবং এই দারুণ আশাবাদী তথ্যের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার: আপনাকে এবং আপনাদের পাঠকদেরও ধন্যবাদ।


কেকে/সাশ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  পোল্ট্রিখাত   গবেষণা   খামারি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close