চট্টগ্রাম পিডিবিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে এক নারী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে সিবিএ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় ওই নারী কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে এক সহকারী প্রকৌশলীকে কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে অবস্থিত বিদ্যুৎ ভবনের পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল বুধবার ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
এদিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জড়িত চার শ্রমিককে চট্টগ্রাম থেকে দেশের চারটি প্রত্যন্ত জেলায় তাৎক্ষণিক বদলি করেছে কর্তৃপক্ষ। বদলি হওয়া শ্রমিকরা হলেন—প্ল্যান্ট অপারেটর-সি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান (পাবনা), লাইনম্যান মোহাম্মদ নুরুন্নবী (ভোলা), ইলেকট্রিশিয়ান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (সিলেট) ও গাড়িচালক মোহাম্মদ আইয়ুব (দিনাজপুর)।
সিবিএ নেতাদের দুর্ব্যবহারের শিকার কর্মকর্তা হলেন—নিলুফারিন আকতার। তিনি পিডিবির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কম্পিউটার কেন্দ্রে সিস্টেম অ্যানালিস্ট (নির্বাহী প্রকৌশলী) হিসেবে কর্মরত। আর মারধরের শিকার হয়েছেন সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফারিন আকতার বলেন, ‘সম্প্রতি কাজ নেই, মজুরি নেই ভিত্তিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে একজন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। সিবিএ নেতারা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতামত না নিয়ে কেন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে; তা জানতে মঙ্গলবার দুপুরে ২০ থেকে ৩০ জন আমার কক্ষে আসেন। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক গাজী আইয়ুবের নেতৃত্বে সিবিএ নেতারা রুমে ঢুকেই উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। আমি বারবার চেষ্টা করেও তাদের শান্ত করতে ব্যর্থ হই। একপর্যায়ে তারা চরম দুর্ব্যবহার শুরু করেন।’
নিলুফারিন আকতার জানান, হইহুল্লোড় শুনে আশপাশের কক্ষ থেকে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এগিয়ে আসেন। এ সময় সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সিবিএ নেতাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে উল্টো তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সিবিএ কর্মীরা মেহেদীকে কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে করিডরে বের করে আনেন এবং সেখানে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ঘটনার পরপরই তিনি লিখিতভাবে বিষয়টি পিডিবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদকে জানিয়েছেন।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়—বিদ্যুৎ ভবনের পঞ্চম তলার করিডরে উত্তেজিত শ্রমিক ও সিবিএ নেতাদের একটি বড় দল জড়ো হয়ে হট্টগোল করছেন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের সরাসরি ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। করিডরে উপস্থিত অন্যান্য সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে এ সময় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে শ্রমিক নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার কথা স্বীকার করলেও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিবিএ নেতারা। সিবিএ’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘লোক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ম্যাডামের সঙ্গে একটু সমস্যা হয়েছিল। তারা বিগত রাজনৈতিক আমলের (আওয়ামী লীগ) লোককে নিয়োগ দিয়েছেন, যার প্রতিবাদ করা হয়েছে। এখন আমাদের চারজনকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এক পক্ষ বলেছে তারা দাবিদাওয়া নিয়ে সেখানে গেছে। তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। অন্য পক্ষ বলেছে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা উভয়পক্ষের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরে পাঠিয়েছি। তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
এ ঘটনায় নিন্দা—প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে—ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), পিডিবি ইঞ্জিনিয়ার্স এ্যাসোসিয়েশন ও বুয়েট শিক্ষার্থীরা। গতকাল পৃথক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
কেকে/এজে