শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সব নাগরিকের জন্য বাজেট      মালয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার আদলে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনা সরকারের      দুই দশক পর কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী      রোববারই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা      হঠাৎ বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ডাউন, লগআউট মেসেঞ্জার      বেতন বৃদ্ধি দুর্নীতি কমাতে সহায়ক হবে: অর্থমন্ত্রী      নয়াদিল্লিতে বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক শেষ হলো যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই      
খোলাকাগজ স্পেশাল
টার্গেট কিলিং থামছে না
রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:১৬ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দেশে একের পর এক অপরাধ বাড়ছে। প্রকাশ্যে গুলি ছুড়ে বা নানাভাবে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ঘটনা দেশবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি টিআইবিও এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যদিও সরকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছে, আগের থেকে বর্তমানে সারাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশে প্রতিদিনই এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটছে। সবশেষ গতকাল খুলনায় বিএনপির এক নেতাকে গুলি ছুড়ে হত্যা করা হয়েছে। একই দিন রাজধানীতে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। প্রায়ই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এতে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা বলছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। অথচ খুলনায় যৌথ অভিযান চলছে। এর মধ্যেই বিএনপির নেতাকে খুনের ঘটনা ঘটল। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর যত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, বিএনপি-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরাই এর শিকার হয়েছেন বেশি।

খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেই বিএনপি নেতা খুন

খুলনায় রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল দুপুরে নগরের লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকার কাজীপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল ইসলামের বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নে। তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ‘ঢাকাইয়া রফিক’ নামেও পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আসাবুর রহমান হাওলাদার বলেন, রফিকুল ইসলাম বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। তাঁর ফেসবুক আইডিতেও একই পরিচয় দেওয়া আছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লবণচরা থানার কাজীপাড়া বাজারে রফিকুল ইসলাম বসে ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা এক দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার পর লবণচরা থানার প্রত্যন্ত এলাকার একটি বাজারে রফিকুল ইসলাম বসে ছিলেন। একটি মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা এক দুর্বৃত্ত তার তলপেটে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রফিকুল ইসলাম বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে তিনি পাথরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দুর্বৃত্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। খুলনা মহানগরে বর্তমানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চলমান। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

কারামুক্তির পাঁচ দিনের মাথায় গুলিবিদ্ধ ‘কাইল্যা পলাশ’

কারামুক্তির পাঁচ দিনের মাথায় জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে কাইল্যা পলাশ (৫৫)। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ডিশ ব্যবসা, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হত্যাচেষ্টার এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছেলে পলককে নিয়ে জুমার নামাজ পড়তে যান কাইল্যা পলাশ। নামাজ শেষে রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকার রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পলাশ। মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি আগে থেকেই ওই রাস্তার মুখে অবস্থান করছিলেন। পলাশ হেঁটে হেঁটে তার কাছাকাছি এলেই সে গুলি চালায়। প্রথম দুটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরবর্তী একটি গুলি তার মাথায় লাগে। পরে আশপাশের লোকজন তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢামেক হাসপাতালে তার অনুসারী ও পরিচিতদের ভিড় দেখা যায়। এদের অধিকাংশ স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক নেতাকর্মী।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পলাশকে হত্যাচেষ্টা ও তার অতীত কর্মকাণ্ড মাথায় রেখে নেপথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। গুলির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় আলোচিত মিজান হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত কাইল্যা পলাশকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে উচ্চ আদালত সেই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দীর্ঘ কারাভোগ শেষে গত ৭ জুন মুক্তি পান পলাশ। এলাকায় ফিরে তিনি আবারও ডিশ ব্যবসা, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন খাসজমি, মার্কেট ও নবনির্মিত ভবনকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপুরা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, কারাগারে থাকলেও পলাশের প্রভাব পুরোপুরি কমেনি। আদালতে হাজিরা, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য কারণে কারাগারের বাইরে আসার সুযোগে সে এলাকায় যাতায়াত করত। এমনকি কারাগারে থাকাকালেও তার অনুসারীরা তার নামে চাঁদা আদায় করত। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় রামপুরার বাসায় প্রতি মাসে দু-তিনবার যাতায়াত করতেন তিনি। সে সময় রোগী সেজে কারাগার থেকে বিভিন্ন হাসপাতালেও ভর্তি হন পলাশ। সেসব হাসপাতালে তার পরিবারের অবাধ যাতায়াত ছিল। আদালতে হাজিরা দিতে এসে রামপুরার বাসায় তিনি সময় কাটাতেন। এমনকি তিনি কারাবন্দি থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রী একটি সন্তান জন্ম দেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।

স্থানীয়দের দাবি, কারাবন্দি থাকাকালেও তার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ডিশ ব্যবসা ও মাদক কারবার পরিচালিত হতো। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভবন নির্মাণকাজ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও ছিল তার নামে। কারামুক্তির পর তিনি আগের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রুপের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। একই সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন পলাতক সন্ত্রাসী এবং স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপও তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার এনএম নাসিরুদ্দিন খোলা কাগজকে বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। আমরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছি। কোনো ঘটনা ঘটলে যত দ্রুত সম্ভব আমরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি। বেশির ভাগ ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার করছি।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  টার্গেট কিলিং  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close