কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হলো স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান কর্মসূচি। স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উদ্যোগ এলাকাজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গঠনে একটি ইতিবাচক ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রোববার (১৪ জুন) সকালে অষ্টগ্রাম থানা চত্বরে “অস্ত্রের বদলে আস্থা, সহিংসতার বদলে সম্প্রীতি”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মানুষ থানা চত্বরে জড়ো হন এবং নিজেদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে জমা দিতে শুরু করেন। এতে বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্র পুলিশের হেফাজতে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ সময় আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। স্থানীয়দের এমন অংশগ্রহণে পুরো থানা চত্বর এক উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরিণত হয়।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে সামাজিক দ্বন্দ্ব ও সহিংসতা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং তরুণ প্রজন্মকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে উৎসাহিত করবে।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মসূচি শুধু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহিংসতার পথ পরিহার করার একটি বড় উদ্যোগ।”
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, “অষ্টগ্রামে একটি সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আজকের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে অষ্টগ্রামের মানুষ শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।”
অনুষ্ঠান শেষে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল সহযোগিতা, সচেতনতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য পরিবেশ, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
কেকে/এলএ