লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় কিশোর লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাকিবুল ইসলাম রকি (২৪) ও তার বাবা মোস্তাফিজুর রহমান জুয়েল (৫৪) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (১৪ জুন) লালমনিরহাটের আদিতমারী আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক মো. আলাউদ্দিন তাদের জেলহাজতে পাঠান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট কোর্ট ইন্সপেক্টর আশরাফুজ্জামান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৮ জুন) রাতে উপজেলার সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সারপুকুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলী লাদেনকে গাঁজাখোর বলে কটূক্তি করলে তিনি অভিযুক্ত রাব্বিকে চড় মারেন। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হলেও ক্ষোভ থেকে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই বিদ্যালয় মাঠে একা বসে থাকা লাদেনকে রাব্বির বড় ভাই রাকিবুল ইসলাম রকি পেছন দিক থেকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় লাদেনকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরদিন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী লাশ নিয়ে সাপ্টিবাড়ি বাজার এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে রাকিবুল ইসলাম রকিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, “এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিসহ দুইজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
কেকে/ এমএস