জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারি রাস্তায় সুফলভোগীদের লাগানো বড় ৮টি ইউক্যালেপস্টাস গাছ কর্তনের অভিযোগ ওঠেছে চাতাল ব্যবসায়ী শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্তনকৃত গাছের গুড়িগুলো জব্দ করেন এবং ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত চাতাল ব্যবসায়ীর ছেলে গোলাম রব্বানীকে অফিসে নিয়ে আসেন।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১টার দিকে পৌরশহরের মুলগ্রাম-হাটশেখা রাস্তায় ঘটেছে।
বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে মুচলেকা নিয়ে গোলাম রব্বানীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজন, উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৪-১৫ বছর পূর্বে স্থানীয় বনবিভাগের সহযোগীতায় রুপায়ন কৃষক সমবায় সমিতির সুফলভোগীরা রাস্তার দুই পাশে ইউক্যালেপস্টাসসহ বিভিন্ন জাতের গাছ লাগান। গাছগুলো ইতোমধ্যে বড় হয়েছে। কর্তনের উপযোগীও বটে। মূলগ্রাম-হাটশেখা রাস্তার কোলঘেঁষে কালাই পৌরশহরের হুমায়ুন তালুকদারের অটোরাইচ মিল এলাকায় বসতবাড়ি ও ব্যবসায়-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন শামসুল ইসলাম।
বাড়ির পিছনে রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় থাকা সুফলভোগীদের মোট ৮টি ইউক্যালেপস্টাস গাছ সোমবার সকালে কেটে ফেলেন শামসুল ইসলাম। গাছগুলো কাটার পর দ্রুত ট্রাকে করে নিয়েও যান তিনি। এরপর দুপুরের দিকে বেশ কয়েকটি গুল রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে খবর দেন।
পরে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্তনকৃত গাছের বেশকিছু গুড়ি জব্দ করেন। শামসুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে না পেয়ে তার ছেলেকে অফিসে নিয়ে আসেন। ৮টি গাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় লক্ষাধীক টাকা।
রুপায়ন কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘গাছগুলো সমিতির, অথচ গাছগুলো কেটেছে চাতাল ব্যবসায়ী শামসুল। নিজের জায়গায় গাছ দাবি করে তিনি কেটেছেন। গাছ কাটার সময় বাধাও দিয়েছি, তাও শোনেনি। সুফলভোগীরদের মারধর করতে আসলে আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন আসার আগেই অধিকাংশ গাছের গুল ট্রাকে করে নিয়ে গেছে। নামমাত্র কয়েকটি গুল রাস্তার পাশে পড়ে আছে। এসিল্যান্ড ওর ছেলেকে নিয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয় কি হয়।’
বগুড়া রেঞ্জের কালাই বনবিভাগের বন প্রহরী ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘আসলে সুফলভোগীদের গাছ তদারকি করার দায়িত্ব আমাদের নয়, বিক্রির সময় শুধু বনবিভাগ দর নির্ধারণ করে দেয়। এর বাহিরে কোনো কাজ নেই। তবে ওই রাস্তার গাছ কর্তনের কথা শুনেছি। সাথে সাথে ইউএনওকে জানিয়েছি।’
অভিযুক্ত শামসুল ইসলামের ছেলে গোলাম রব্বানী বলেন, ‘জায়গা ও গাছ উভয় আমাদের, তাই আমরা গাছগুলো কেটেছি। এখন সফলভোগীরা অযাচিত গাছগুলো সমিতির বলে দাবি করছে। জায়গার দলিলপত্র দেখিয়ে এবং কর্তৃনকৃত গাছ না সরানো শর্তে মুচলেকা দিয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে চলে আসছি।’
আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, ‘কর্তৃনকৃত গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত চাতাল ব্যবসায়ীকে না পেয়ে তার ছেলেকে অফিসে এনে কর্তৃনকৃত গাছগুলো না সরানো ও আর কোনো নতুন গাছ কর্তন না করা শর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে।’
কেকে/এমএ