কিশোরগঞ্জ শহরে কোচিং থেকে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীর হামলায় সালমান সানি (১৮) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আহত সালমান সানির বাবা কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার (১৫ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের ঐতিহ্যবাহী আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়-সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আহত সালমান সানি সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের স্বল্প যশোদল নোয়াপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে। সে কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং শহরের উকিলপাড়া এলাকার প্রমিস কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কোচিং শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সালমান সানি। পথে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়-সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সানির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিয়েছেন এবং তার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীর বাবা কামরুল ইসলাম বলেন, “কোচিং শেষে নিয়মিত যাতায়াতের সময় এমন হামলার ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হোসেন বলেন, “শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই ছিনতাই ও ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ শোনা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল জোরদার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেকে/এলএ