কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে ওয়াহিদ (৭) নামে এক শিশু নিখোঁজের তিন দিন পরে পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় এলাকাবাসী তিন জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফজুমিয়াজি চর এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ।
নিহত শিশু ওয়াহেদ পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া এলাকার তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৪ জুন) বাড়ি থেকে শিশু ওয়াহিদ নিখোঁজ হয়ে যায়। ওইদিন সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও শিশুটি বাসায় না ফেরায় পরিবার লোকজন তাঁকে খোঁজতে থাকে। দুইদিন ধরে তার পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোন সন্ধান মেলেনি। আজ সকালে শিশুর মরদেহ পরিত্যক্ত ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, শিশু ওয়াহিদ নিখোঁজ হওয়ার পরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মরদেহ পরিত্যক্ত ডোবার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। যার কারণে শিশুটির মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। নিখোঁজ হওয়ার তিন পরে আজ সকালে ফজুমিয়াজির চর ৪নম্বর ওয়ার্ডের পরিত্যক্ত ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের খবর দেয়।
নিহত শিশুর বাবা ইজিবাইক চালক তৌহিদুল ইসলাম লিটন জানান, তার ছেলে ওয়াহিদ স্থানীয় মাইজপাড়া নূরানী মাদরাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। গত রোববার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাদরাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হলেও তার হদিস মিলছিল না। আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে স্থানীয় লোকজন ফজুমিয়াজির চরের পরিত্যক্ত ডোবার পানিতে ওয়াহিদের মরদেহ ভাসতে দেখে খবর দেন।
পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশু ওয়াহিদ দুইদিন পূর্বে নিখোঁজ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে ফজুমিয়াজি চরের পরিত্যক্ত ডোবায় তার মরদেহ দেখে অবহিত করেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাৎক্ষণিক ভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। এই ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আইন শৃংখলা বাহিনী ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্তপূর্বক গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবেন।
স্থানীয়দের দাবি, শিশু ওয়াহিদের মৃত্যু বিষয়টি কোনো ধরণের স্বাভাবিক ঘটনা নয়। কারণ পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার বাড়ি অনেক দূর। কেউ না কেউ তাঁকে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, শিশু ওয়াহিদকে বলৎকারের পর পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
এদিকে, শিশু ওয়াহিদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার এবং পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরুতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারসহ এলাকাবাসীর সন্দেহ অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।
কেকে/ এমএস