শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬,
৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
শিরোনাম: শক্তি জানান দিচ্ছে আওয়ামী লীগ      উল্টোরথে শাহে আলম      বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসএসএফ-কে প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর      স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা আলভী কারাগারে      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু      সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে : শিক্ষামন্ত্রী      স্বর্ণের দামে আবারও রেকর্ড, ভরিতে কত?      
খোলাকাগজ স্পেশাল
শক্তি জানান দিচ্ছে আওয়ামী লীগ
রোকন উদ্দিন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৯:৪৬ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও বিক্ষোভের মাধ্যমে সক্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে বিদেশে পলাতক নেতারা দেশের কর্মী-সমর্থকদের মাঠে নামাতে নানামুখী উসকানি দিচ্ছেন। এসব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকালও গণভবনের সামনে এবং মহাখালী এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেন দলটির নেতাকর্মীরা। মহাখালীতে মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে জড়িতদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। আবার আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। রাজপথে তার প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। অন্য রাজনৈতিক দলের কিছু বৈরী সম্পর্ককে লক্ষ্য করে তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টাও করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে প্রায় প্রতিদিনই বিশাল আকারে মিছিল-সমাবেশ করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এদিকে, ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা দলকে নতুন করে সক্রিয় করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরকারের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর নজরদারির মধ্যে এই ঝটিকা মিছিলগুলোকে দলটি তাদের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে দলটির বড় কোনো জমায়েত বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ সীমিত। তা ছাড়া বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এসব মিছিল-সমাবেশে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। দলগুলোর শীর্ষ পর্যায় থেকেও কোনো ধরনের সবুজ সংকেত মিলছে না। যে কারণে ধরপাকড়ও চলমান রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন, সাম্প্রতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দলটির এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার কথাও বলছেন তারা।

রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর মহাখালীতে ঝটিকা মিছিল করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। গতকাল সকালে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে মিজানুর রহমান হাওলাদার (৪০), শামীম আরা বেবি (৫০) ও শামীম হোসেন (৪৮) নামে তিনজনকে আটক করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে মহাখালীর আইসিডিডিআরবির সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন জড়ো হন। পরে তারা বাস টার্মিনালের দিকে মিছিল শুরু করেন। টার্মিনাল এলাকায় মহিলা লীগেরও কয়েকজন যুক্ত হন। এ সময় মিছিল থেকে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা পালিয়ে যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের কয়েকজন মিছিল করেছে। তারা ৪-৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে মিছিল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।

রাজধানীর গণভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতাকর্মীরা। সকাল ১০টার দিকে গণভবন ও রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের সামনের সড়কে এ বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে ৪০-৫০ জনের একটি দল প্রথমে রেসিডেন্সিয়াল কলেজের সামনে মিছিল শুরু করে। পরে সড়ক ঘুরে গণভবনের সামনের মূল ফটক পাড় হয়ে মিছিলটি শেষ করে।

বিদেশেও বেপরোয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা

বিদেশেও আওয়ামী লীগ বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ক্ষমতাচ্যুত ও দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও প্রবাসে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে বিভিন্ন সহিংসতায় জড়াচ্ছেন দলটির সমর্থকরা। বিভিন্ন স্থানে নতুন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ, এমনকি কনস্যুলেটেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট ভবনে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা হামলা ও ভাঙচুর চালান। এছাড়া জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে হাসনাত আবদুল্লাহর ওপরও ডিম নিক্ষেপ ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কলকাতায় স্ত্রীসহ অভিনেতা মোশাররফ করিম আওয়ামী লীগের তোপের মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে।

প্রবাসে এসব সহিংস আচরণের জেরে স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের আটকও করা হয়েছে। ইউরোপের দেশ পর্তুগালসহ বিভিন্ন স্থানেও দলটির নেতাকর্মীরা বেপরোয়া আচরণ ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে নানা মাধ্যমে আলোচনা চলছে।

লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর সভাস্থল ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ

লন্ডনে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা ও এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। গত সোমবার পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল ও এলেম পার্ক এলাকায় বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার নেতাকর্মীরা হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাসহ অন্তত তিনজনকে আটক করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘হাসনাত আবদুল্লাহর লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচি দেয়নি। তবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের ছাত্র ও যুবসমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে থাকতে পারে।’

আওয়ামী লীগের ‘টার্গেট’

বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি—এই তিন দলের মধ্যে বিরোধের সূত্র ধরে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলটির টার্গেট—দেশে যদি গোলযোগ বা সংঘাত সৃষ্টি হয়, তাহলে সেই সুযোগে তারা দেশে ঢুকে রাজনীতির মাঠ দখল করে ফেলতে পারবে।

রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ বর্তমানে মাঠের রাজনীতিতে পুরোপুরি কোণঠাসা। তবে দলটির একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ‘চোরাগুপ্তা’ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যবর্তী বিরোধকে আরও উসকে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। এমনকি রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায়ই দলটির নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল করতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার মতো সাহসও দেখাচ্ছেন তারা।

বর্তমানে দেশে আধিপত্য বিস্তারসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ‘বৈরিতা’ দেখা যাচ্ছে। আর তিনটি দলের এই বিরোধ বা অনৈক্যের সুযোগ নিতে চাইছে আওয়ামী লীগ। দলটি একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছে। উদ্দেশ্য হলো—ওই সুযোগে তারা যাতে দেশে ঢুকে পড়ে রাজনীতির মাঠ দখল করতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও নেপথ্যে থেকে নানা ইস্যুকে উসকে দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর দলটির প্রত্যাশা ছিল, ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার অন্তত তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ সংসদে পাস করে আইনে পরিণত করায় রাজনীতিতে ফেরার আশা দলটির আরও কমে যায়। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এসব কারণে তারা এখন বিএনপি সরকারের ব্যর্থতা দেখতে আগ্রহী। পাশাপাশি তারা চায়, তিন দলের মধ্যে বিরোধের সূত্র ধরে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করতে। এমন সুযোগে তারা দেশে ঢুকে পড়তে পারবে বলে মনে করছে।

‘আ.লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না’

আওয়ামী লীগকে আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করার অপচেষ্টা চালানো হতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গতকাল সকালে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিছু গোষ্ঠী স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:   আওয়ামীলীগ   বাংলাদেশ   রাজনীতি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close