৬০ দিনের জন্য জ্বালানি তেল রপ্তানিতে ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে আলোচনা অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে এই লাইসেন্স জারি করা হয়েছে। এই সুবিধার ফলে আগামী দুই মাস ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেন বৈধভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরান-সম্পর্কিত একটি ৬০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যার আওতায় আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে বিশ্বকে আমরা আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করতে চলেছি।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘সুইজারল্যান্ডে চলমান ফলপ্রসূ আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও উন্মুক্ত নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’
স্কট বেসেন্ট লিখেন, ‘এরই অংশ হিসেবে ট্রেজারি বিভাগ ইরানের তেল উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির অনুমোদন দিয়ে একটি অস্থায়ী ৬০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে।’
যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান ও কাতারের শীর্ষ নেতারা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার। আর ইরানের পক্ষে সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ড ত্যাগ করলেও কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা এখনও শেষ হয়নি।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদির নেতৃত্বে ইরানের একটি বিশেষ দল সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছে। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাবে। এই দলটি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে।
মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ পাকিস্তান ও কাতারের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আলোচনা একটি ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদল গঠন করা হয়েছে। এসব দল সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে কাজ করবে।
সূত্র : আইএসএনএ, তাসনিম, আল জাজিরার
কেকে/এমএ