বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত      ছয় ব্যাংকে আটকে আছে ডেসকোর ২৫০ কোটি টাকা      পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া      এনবিআরের পাঁচ অঙ্গীকার      কলকাতায় আগুনে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু      তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার      রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করব: মির্জা ফখরুল      
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৯ এএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করতে দেশটির ওপর টানা ১০ থেকে ১৪ দিনের বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই এই পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইরানের চলমান হুমকি নির্মূল করার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। ফ্লোরিডার টাম্পায় সেন্টকমের সদর দপ্তর থেকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনা করছেন।

এরই মধ্যে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আকস্মিক হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়। সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর ভারী মাত্রার হামলার একটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। হামলার অংশ হিসেবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সামরিক কমান্ড সেন্টারসহ কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের কয়েকটি শহর এবং কেশম দ্বীপে হামলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশমে তিনজন নিহত হয়েছেন। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের বরাতে সংস্থাটি জানায়, খুজেস্তানের আবাদান, শাদেগান, আরভান্দকেনার ও আহভাজ শহরের আশপাশের এলাকাতেও হামলা হয়েছে।

রাতভর চালানো হামলার পর আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘আজই আগ্রাসনকারীকে শাস্তি দেবে।’ এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে জর্ডান জানিয়েছে, আরও পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে তারা।

এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, তিনি ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাবেন এবং দেশটিকে ‘উচিত শিক্ষা দেবেন’ দেবেন। তার এই বক্তব্যকে যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘গো বিগ’ পরিকল্পনা

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডমিরাল কুপারের তৈরি পরিকল্পনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কয়েকটি সামরিক বিকল্পের একটি। এর মধ্যে দ্রুত ও বড় আকারে যুদ্ধের মাত্রা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে এই পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এসব ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োজন হওয়ায় সব মজুত মধ্যপ্রাচ্যে কেন্দ্রীভূত করাও সম্ভব নয়।

একটি নতুন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২ হাজার ৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। কয়েক মাসের যুদ্ধে সেই সংখ্যা কমে ৭৫৯টিতে নেমে এসেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, যুদ্ধ আবার শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়িষ্ণু ইন্টারসেপ্টর মজুত বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়বে। একই সঙ্গে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এখন ‘সংঘাত বাড়ানোর মেজাজে’ রয়েছেন। তবে তিনি কী মাত্রায় জবাব দেবেন, তা নিয়ে এখনও ভাবছেন। অ্যাডমিরাল কুপারের পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দ্রুত যুদ্ধের মাত্রা বাড়ানো। এখন পর্যন্ত ইরানের জাহাজ চলাচলে হুমকি ঠেকাতে তুলনামূলক ছোট পাল্টা হামলা চালানো হলেও তাতে তেহরানকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের হুমকি দেয়া থেকে বিরত রাখা যায়নি।

কুপারের প্রস্তাবিত ‘গো বিগ’ পদ্ধতিতে একসঙ্গে বড় আকারের হামলা চালিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হবে। এর ফলে ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা কমে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর চাপও কমবে বলে পরিকল্পনাটির পক্ষে যুক্তি দেয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে কর্মকর্তাদের মতবিরোধ

যুদ্ধ কীভাবে এগিয়ে নেয়া হবে, তা নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধে ট্রাম্প ‘হতাশ’ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক এক বৈঠকে কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাতে এনবিসি নিউজ জানায়, ‘প্রেসিডেন্ট হতাশ। ইরানিদের একটি চুক্তিতে রাজি করানো এত কঠিন হবে- তিনি মনে হয় তা বিশ্বাস করেননি।’ ওই সূত্র আরও বলেন, যুদ্ধ কত দিন চলবে বা কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের কী করা উচিত, সে বিষয়ে শুরুতে কোনো বাস্তব কৌশল ছিল না ওয়াশিংটনের।

এদিকে, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যে ‘খোলামেলা’ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। এর আগে মার্চে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ভ্যান্স। ওই বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী মূল্যায়ন দিচ্ছেন।

জুনে ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছিলেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়েছে, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রই তার একমাত্র বন্ধু এবং শুধু মানুষ হত্যা করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। পরের মাসে তিনি যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য যোগাযোগের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে জর্ডানে চালানো আকস্মিক হামলাও রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে এমন একটি হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়।

এদিকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে যুদ্ধে যোগ দিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদের তেল স্থাপনায় হামলার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ ইরানের প্রতি অনুগত মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে। এরপর ইরাকে থাকা সেই মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে হামলা চালায় সৌদি বাহিনী।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অস্ত্র ও রসদ সংরক্ষণের স্থাপনাগুলো ছিল হামলার লক্ষ্য। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে সংঘাত

বুধবার মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে একটি মার্কিন মালিকানাধীন গ্যাস সংরক্ষণকারী ট্যাংকার এবং গ্রিসের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরান থেকে ড্রোনগুলো ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। অঞ্চলজুড়ে নিজেদের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই ইরান এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেছে সূত্রগুলো।

কেকে/এলএ




আরও সংবাদ   বিষয়:  ইরান   যুক্তরাষ্ট্র  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close