দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামের ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে হতাহতের এ তথ্য জানান।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুই ভূমিকম্পের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা, যেখানে দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার অবস্থিত। কম্পনের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভবন, সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রকাশিত ভিডিওতে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারে ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অনেক বাসিন্দাকে আতঙ্কিত অবস্থায় ভবন ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বহু ভবন ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও অনেক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের দিন ভেনেজুয়েলায় জাতীয় ছুটি ছিল। সেন্ট জন ব্যাপটিস্টের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অধিকাংশ মানুষ বাড়িতে বা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন। ফলে আবাসিক এলাকায় হতাহতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
কেকে/ এমএস