মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
শিরোনাম: যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় থামেনি ইসরাইলের হামলা, বাড়ছে হতাহত      জাতীয় সংসদে পাস হলো অর্থবিল-২০২৬      লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার মানুষ পানিবন্ধি      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু      এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব      ‘যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’      একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে ঢাকা, সমন্বিত প্রস্তুতি জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঢাকা আজ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ নগরী। অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র হিসেবে রাজধানীর গুরুত্ব যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে এর দুর্বলতা। সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ উদ্বেগজনক এক বাস্তবতার দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। রাজধানীর অর্ধেকেরও বেশি ভবন ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে, অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের হালনাগাদ তথ্য, কার্যকর তদারকি এবং নাগরিক প্রস্তুতি এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় (যেমন : নরসিংদী, গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জ) বারবার মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর কারণ হলো ভারত, ইউরেশিয়া এবং বার্মা এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান ফলে ফল্ট লাইনগুলো প্রায়ই সক্রিয় হয়। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূ-অভ্যন্তরের ডাউকি ফল্টসহ অন্যান্য সক্রিয় চ্যুতিগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি জমা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) গবেষণা বলছে, ঢাকার ৫৬.২৬ শতাংশ ভবন ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে এবং আরও ৩৬.৮৭ শতাংশ ভবন মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থাৎ রাজধানীর প্রায় সমগ্র নির্মিত অবকাঠামোই কোনো না কোনো মাত্রায় ঝুঁকির মধ্যে অবস্থান করছে। 

অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন, দুর্বল মাটিতে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং অপ্রশস্ত সড়কব্যবস্থা এ সংকটকে আরও তীব্র করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজউকের সর্বশেষ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা ২০১৬ সালে হালনাগাদ করা হয়েছিল। এরপর এক দশক পার হতে চললেও রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তথ্যভান্ডার তৈরি হয়নি। 

অথচ এই সময়ে ঢাকায় হাজার হাজার নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে। যে নগরীতে ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে, সেখানে ঝুঁকির তথ্যই যদি পুরোনো থাকে, তবে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সরকার যে ‘মেগা প্ল্যান’ গ্রহণ করেছে, তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। এক লাখ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলা, ৪৫০টি অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট নির্ধারণ, উদ্ধারযন্ত্র ও হাসপাতালের সক্ষমতার তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। 

তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শুধু উদ্ধার ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পূর্বপ্রস্তুতি। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, রাজধানীর সব ভবনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করে দ্রুত একটি হালনাগাদ ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনকারী ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন নির্মাণে নিয়ম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কাঠামোগত শক্তিবৃদ্ধি বা রেট্রোফিটিং কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি। 

সংকীর্ণ সড়ক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর জন্য বিশেষ উদ্ধার পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে। একইসঙ্গে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। অন্যদিকে নাগরিকদের দায়িত্বও কম নয়। ভবন নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা, প্রকৌশলগত মান বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা মালিকদের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। 

পরিবারভিত্তিক জরুরি প্রস্তুতি, ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা এবং মহড়ায় অংশগ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু সরকারের একার কাজ নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের যৌথ দায়িত্ব। ভূমিকম্প কখন আঘাত হানবে, তা কেউ বলতে পারে না। কিন্তু প্রস্তুতির ঘাটতি যে বিপর্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তার প্রমাণ পৃথিবীর বহু নগরী দেখেছে। গতকালের ভেনুজুয়েলাই তার বড় প্রমাণ। 

তাই ভূমিকম্পকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিপদ হিসেবে নয়, বর্তমানের বাস্তব ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রস্তুতির বিকল্প নেই, আর দেরিরও সুযোগ নেই।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close