কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উদ্ধার করা ১৬০ কেজি গাঁজা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ বারীকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৭ জুন) রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের সামনে মহাসড়কে অবস্থান করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইট ডিউটিতে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমাম উদ্দিন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাফিজুর রহমান কাভার্ডভ্যানটিতে তল্লাশি চালান।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তিনটি বস্তাভর্তি প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও তা নিয়ম অনুযায়ী জব্দ না করে রাতেই ধাপে ধাপে কয়েকজন মাদক কারবারির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে একটি কালো টিআরএক্স মাইক্রোবাসে করে গাঁজাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
এছাড়া কাভার্ডভ্যানটি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের দাবি, প্রতি কেজি গাঁজা প্রায় ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই রাতে ফায়ার সার্ভিসের সামনে একটি কাভার্ডভ্যান আটক করে চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে ইমাম উদ্দিন ও হাফিজুর রহমান বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারির আনাগোনাও দেখা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, “আমি ওই রাতে নাইট ডিউটিতে ছিলাম। গাঁজা উদ্ধার ও বিক্রির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
হাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে ইমাম স্যার জানেন। আমি কিছু বলতে পারব না।”
এমএ বারী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সংবাদ হলে আমার আর কিছু বলার নেই।”
দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেকে/এমএ