মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা ও ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণ এবং যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যাওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী।
বুধবার (১ জুলাই) রাত ৯টার পর থেকে টেকনাফ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিশেষ করে শাহপরীরদ্বীপ ও আশপাশের এলাকায় শব্দের তীব্রতা বেশি ছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিস্ফোরণের তীব্রতায় সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। নাফ নদীর ওপারে মাঝেমধ্যে আগুনের ঝলকানিও দেখা যায়। এতে অনেক বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
টেকনাফের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ দিলু বলেন, কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ টেকনাফ পৌর এলাকাতেও স্পষ্ট শোনা গেছে। নাফ নদীর ওপারে আগুনের ঝলকানি দেখা যাওয়ায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাত ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমারের বিমান বাহিনী অন্তত ২৭টি বোমা নিক্ষেপ করেছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপদ আছে।’
সাবরাং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘গভীর রাত পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ায় সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও টেকনাফ সীমান্তে একই ধরনের বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও রাখাইনে তীব্র সংঘাত শুরু হওয়ায় সীমান্তবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কেকে/ এমএস