মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬,
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: চাঁদপুরে যাত্রীবাহী বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১৫      বিএনপির পরিকল্পনা-কর্মসূচি সবসময়ই জনবান্ধব : প্রধানমন্ত্রী      প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী      হাসিনা ও হাদি হত্যাকারীদের ফেরাতে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের অনুরোধ      প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক      শহর-গ্রামে ডেঙ্গুর ভয়      চমক আসছে মন্ত্রিসভায়      
দেশজুড়ে
বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা, নোভিদের হাতে জিপিএ-৫
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

মা মারা গেছেন প্রায় এক বছর আগে। এবার এসএসসি পরীক্ষার মাঝপথে বাবাকেও হারিয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থী সাদিক হোসেন নোভিদ। বাবার মৃত্যুর খবর গোপন রেখেই তাকে পরীক্ষা দিতে পাঠিয়েছিল পরিবার। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর জানতে পারেন, বাবা আর নেই। সেই শোক বুকে নিয়েই বাকি পরীক্ষাগুলো শেষ করে এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।

নোভিদ মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পলিশা গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক দম্পতি সুজাউদ্দিন সুজা ও কামরুন্নাহার এলিনার একমাত্র সন্তান। তিনি জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে রাতে স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন নোভিদের বাবা সুজাউদ্দিন সুজা। প্রথমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ মে সকাল ৮টার দিকে মারা যান তিনি।

সেদিন নোভিদের জীববিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। বাবার মৃত্যুর খবর পেলে পরীক্ষায় তার ওপর মানসিক প্রভাব পড়তে পারে—এ আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি তার কাছ থেকে গোপন রাখেন। এমনকি মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করা হয়, যাতে নোভিদ কোনোভাবে জানতে না পারেন।

পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পরই বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন নোভিদ। এরপর বাবাকে শেষবারের মতো দেখা, জানাজা ও দাফন শেষে আবারও তাকে ফিরতে হয় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। বাবা-মাকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই শেষ করেন এসএসসির বাকি পরীক্ষাগুলো।

নোভিদের বাবা সুজাউদ্দিন সুজা পলিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক ছিলেন। তার মা কামরুন্নাহার এলিনা মেলান্দহ উপজেলার চরসগুনা এস এম মোখলেছুর রহমান লাভলু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান তার মা।

ফল প্রকাশের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নোভিদ বলেন, “বাবা-মা বেঁচে থাকলে আমার রেজাল্ট দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। সবাই আমার বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি, আমার জন্যও দোয়া করবেন।”

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, “নোভিদের জিপিএ-৫ অর্জনের খবর অত্যন্ত আনন্দের। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে থাকবে। তার উচ্চশিক্ষার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।”

বাবা-মায়ের ছায়া হারালেও তাদের স্বপ্ন বুকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে চান নোভিদ। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তার এই সাফল্য স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  এসএসসি ২০২৬   জিপিএ-৫  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close