শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: নিত্যপণ্যের বাজারে এখনো ফেরেনি স্বস্তি      রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা      ডিএমপির ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি      ভিসানীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন, থাকছে ৩৪ ক্যাটাগরি      ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারাল আর্জেন্টিনা      ৩৫৭ টাকা কমিয়ে এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু      
খোলাকাগজ স্পেশাল
নিত্যপণ্যের বাজারে এখনো ফেরেনি স্বস্তি
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩২ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। বরং যেসব পণ্যে আগে ৫ শতাংশ কর ছিল, তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা ছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে বাস্তবে রাজধানীর খুচরা বাজারে এখনো সেই প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন শুল্ক-ছাড়ের আওতায় আমদানি করা পণ্য বাজারে আসার পরই প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

বাজেট ঘোষণার পর আমদানি করা সব ধরনের মসলা ও খেজুরের ওপর থেকে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু এই নীতিগত সুবিধা এখনো বাজারে দৃশ্যমান হয়নি। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মসলার দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের বক্তব্যেও রয়েছে ভিন্নতা। কারও মতে, এলাচ ও জিরার মতো কয়েকটি পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। আবার অন্যদের দাবি, অধিকাংশ মসলার দাম আগের মতোই রয়েছে। এমনকি কিছু পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। একইভাবে খেজুরের বাজারেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বাজেটে কর কমানো হলেও সেই সুবিধা এখনো সব পণ্যের দামে প্রতিফলিত হয়নি। তাদের মতে, নতুন শুল্ক-ছাড়ে আমদানি করা পণ্য পাইকারি বাজার হয়ে খুচরা পর্যায়ে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাজারে উচ্চমূল্যের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাজেটের পর বাজারে সব মসলার দাম একভাবে পরিবর্তন হয়নি। এলাচ ও জিরার দাম কিছুটা কমেছে, ফলে ক্রেতারা এই দুটি পণ্য কিনতে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। কিন্তু দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামসহ অধিকাংশ মসলার দাম বরং বেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ক্রেতাই মনে করেন, এলাচ ও জিরার দাম কমেছে মানেই সব মসলার দাম কমেছে। কিন্তু অন্যান্য পণ্যের দাম জানার পর তারা হতাশ হন। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে বাজারে সার্বিকভাবে এখনো স্বস্তি নেই। বিক্রিও আগের তুলনায় কমেছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম না কমলে বাজেটের সুফলও পুরোপুরি মিলবে না।’

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কিছু মসলার দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আগে যেগুলোর দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল, এখন সেগুলো কিছুটা কমছে। তবে বাজার এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সরবরাহও আগের তুলনায় কিছুটা কম রয়েছে। বাজার স্থিতিশীল হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরলে ক্রেতাদের স্বস্তিও বাড়বে। বাজেটের ইতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে দেখা গেলেও পুরোপুরি ফল পেতে আরও সময় লাগবে।’

এক খেজুর বিক্রেতা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাজেটের প্রভাব খেজুরের বাজারে পড়েনি। নতুন চালানের খেজুর বাজারে এলে তখন দাম কিছুটা কমতে পারে। বর্তমানে পুরোনো দামের পণ্যই বিক্রি করতে হচ্ছে। নতুন মাল এলে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দামে পরিবর্তন আসবে।’

বাদামতলীর খেজুর ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, ‘সরকার কর ও শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিলেও বর্তমানে তার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। কারণ এখন খেজুর আমদানির মৌসুম নয়। সাধারণত অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মধ্যে নতুন চালান আসে। বর্তমানে বাজারে থাকা খেজুর আগের শুল্ক-কর দিয়েই আমদানি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন চালান আসার পর সরকার ঘোষিত কর-ছাড়ের কিছুটা প্রভাব দামে পড়তে পারে। তবে এখন যেহেতু পুরোনো মজুত পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তাই দাম কমার সুযোগ নেই। অতীতে হঠাৎ কর কমানোর কারণে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়েছিল। তাই নতুন আমদানি শুরু না হওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।’

পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বিক্রেতা নাসিম বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি করছি। পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম মূলত সরবরাহ ও আমদানির ওপর নির্ভর করে। বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য এলে দাম কমে, আবার সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যায়। এবার পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হওয়ায় আগের তুলনায় দাম অনেক কমেছে। তবে রসুন, আদা ও আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে সরবরাহ পরিস্থিতি অনুযায়ী দামের ওঠানামা হচ্ছে। বাজেটের চেয়ে বাজারে সরবরাহই দামের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে।’

এদিকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংসদ সম্মেলনে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সরকার চায়, যেসব ক্ষেত্রে কর কমানো হয়েছে, সেসব পণ্যের দামও কমুক। এ বিষয়ে সরকার আন্তরিক। ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো কর বাড়ানো হয়নি। বরং যেখানে ৫ শতাংশ কর ছিল, তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বাজেট মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় সব খাতকে স্পর্শ করেছে। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী এটিকে “জীবনবান্ধব বাজেট” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তব অর্থেই একটি জীবনবান্ধব বাজেট।’

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নিত্যপণ্যে   বাজার   ফেরেনি স্বস্তি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close