রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী      ২৪ ঘণ্টায় হামে ছয় শিশুর মৃত্যু      দিল্লিতে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা ককরোচ পার্টির      এআইর দায়িত্বশীল ব্যবহার বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী      প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর      রাষ্ট্রপতি সংবিধানবিরোধী কাজ করলে তার শাস্তি হওয়া উচিত: নাহিদ      শাপলা চত্বর হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু ২৭ জুলাই: চিফ প্রসিকিউটর      
দেশজুড়ে
করিমগঞ্জে বিএনপি-ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম আপডেট: ০৫.০৭.২০২৬ ১১:০৪ পিএম
দেহুন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাজু ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. সাধীন মিয়া।

দেহুন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাজু ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. সাধীন মিয়া।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত আবেদন দিয়েছেন এলাকাবাসী।

রোববার (৫ জুলাই) অভিযোগের বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। 

এর আগে, শনিবার (৪ জুলাই) দেহুন্দা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সচেতন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়।

অভিযুক্তরা হলেন দেহুন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাজু এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. সাধীন মিয়া।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, দেহুন্দা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। এতে রফিকুল ইসলাম রাজু ও মো. সাধীন মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। 

এতে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে, পরিবারগুলোতে অশান্তি বাড়ছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিভিন্ন সময় উত্তেজনা, দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিশেষ করে সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পান।

এ অবস্থায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল জোরদার, মাদক ব্যবসায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং পুরো এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান এলাকাবাসী। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. সাধীন মিয়া। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি কখনোই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং যেকোনো নিরপেক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন।

তিনি বলেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি আইনগত কিংবা সাংগঠনিক—যেকোনো ব্যবস্থা মেনে নেবেন। তার দাবি, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ ও বিক্ষোভের আয়োজন করেছে।

একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেহুন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাজু। তিনি বলেন, তিনি কোনোভাবেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। কেউ যদি তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তিনি মেনে নেবেন।

তিনি আরও দাবি করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল হোসেন ও তার অনুসারীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সম্প্রতি তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ বলেন, "এ বিষয়ে আমি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তি সরাসরি জেলা কমিটির অধীন নন; তিনি করিমগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের অধীনস্থ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব বলেন, এলাকাবাসীর দেওয়া লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  করিমগঞ্জ   মাদক ব্যবসা   অভিযোগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close