সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬,
২২ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: তেহরানে খামেনির শোক র‌্যালি, লাখো মানুষের ঢল      পাহাড়ের বুকে জীবনবাজি বর্ষা এলেই ধসের ভয়       খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার      কমলাপুর পর্যন্ত চালু হচ্ছে মেট্রোরেল      সরকারি ক্রয় কমিটি পুনর্গঠন      পুলিশের ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর      পুলিশের ৬ ডিআইজিকে বদলি, নতুন দায়িত্বে পদায়ন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
কক্সবাজার সৈকত এখন গোচারণ ভূমি
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে গরু, ছাগল ও কুকুরের অবাধ বিচরণের কারণে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতটি অনেক সময় গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মতো প্রধান পর্যটন স্পটগুলোতে প্রায়ই গবাদিপশুর দল ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এছাড়া প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পরও সৈকত এলাকায় বারবার গড়ে উঠছে অবৈধ দোকানপাট।

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো পর্যটক। পরিবার-পরিজন নিয়ে সমুদ্রের নীল জলরাশি আর বালুকাবেলায় মেতে ওঠেন তারা। তবে প্রকৃতির এই অপার সৃষ্টি রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অব্যবস্থাপনা এবং নানামুখী উৎপাতে পর্যটকদের কাছে এখন বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বালিয়াড়িতে গরুর বিচরণ বিশ্বজুড়ে হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টসহ প্রধান প্রধান স্পটগুলোতে অবাধে বিচরণ করছে গরু, ছাগল ও কুকুরের দল। গত শুক্রবারও সুগন্ধা পয়েন্টে বালিয়াড়ির ওপর একঝাঁক গরু ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে, যা দেখে মনে হতে পারে এটি কোনো সমুদ্রসৈকত নয়, বরং একটি গো-চারণ ভূমি।

কিছুদিন আগে এক বিদেশি পর্যটক কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে গরুর বিচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুটি এতে হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে।

কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন জানান, ‘‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত আমাদের পুরো বাংলাদেশের গর্ব। এ সৈকতের সৌন্দর্য ও মর্যাদা ধরে রাখা আমাদের সবার কর্তব্য। কিন্তু যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের চরম অবহেলার কারণেই আজ আমাদের বিশ্ববাসীর কাছে হাসির পাত্র হতে হচ্ছে।’’

পর্যটকদের বিরক্তি

সুগন্ধা সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, বৈরী আবহাওয়ায়ও সৈকতে প্রচুর পর্যটকের উপস্থিতি। তবে ভ্রাম্যমাণ হকারদের কারণে অনেক পর্যটক বিরক্ত হচ্ছিলেন। সৈকতজুড়ে দোকান বসানোয় সেখানেও কেনাকাটা করতে হাজির হয়েছেন প্রচুর মানুষ।

দিন-রাতে নানা ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের অভিযোগ, এখানে শুধু গবাদিপশুর উৎপাতই নয়, রয়েছে আরও হরেক রকমের ভোগান্তি। ছবি তোলার নামে ফটোগ্রাফারদের জোরজুলুম এবং ভ্রাম্যমাণ হকার ও ঝিনুক ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত উপদ্রব পর্যটকদের অতিষ্ঠ করে তুলছে। সৈকতজুড়ে যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটের কারণে হাঁটার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কেবল নিজেদের লাভের দিকেই নজর দিচ্ছেন।

এছাড়া সন্ধ্যা নামলেই সৈকত এলাকায় বাড়ে ছিনতাইকারীদের উৎপাত। পর্যাপ্ত আলোর অভাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ঝিমিয়ে পড়ায় রাতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন পর্যটকরা।

নেত্রকোণা থেকে আসা পর্যটক আলামিন আহসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সমুদ্রের বিশালতা দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি মেলার মতো অবস্থা। সবখানেই দোকান আর দোকান।’

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক সুমন আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য এই কক্সবাজার। কিন্তু এখানকার পরিবেশ দেখলে মনে হয় এ বীচ দেখার মতো অভিভাবক কেউ নেই। বালিয়াড়িতে গরু ঘুরছে, ফটোগ্রাফাররা হয়রানি করছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এটা যেন এক বিচিত্র ও অভিভাবকহীন জায়গা।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আ. মান্নানের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ‘বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ এবং সৈকতে সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য ‘বীচ কর্মী’ নিয়োজিত রয়েছে। এতসব সুযোগ-সুবিধা ও জনবল থাকার পরেও কেন সৈকতের এমন বেহাল দশা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, সৈকতের শৃঙ্খলা ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘সৈকতে গবাদিপশুর বিচরণ বন্ধে আমরা জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। পশুর মালিকদের সতর্ক করা হচ্ছে। এরপরও যদি তারা গরু-ছাগল নিয়ন্ত্রণ না করেন, তবে সমুদ্রসৈকতে পাওয়া মাত্রই সেসব পশু জব্দ করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশের গর্ব নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং আধুনিক পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এর পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
এদিকে প্রকৃতির এই অনন্য দান ও দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত কক্সবাজারকে রক্ষায় কেবল আশ্বাসের বাণী নয়, বরং বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ও কঠোর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ দেখতে চান সচেতন মহল।

কেকে/এলএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  কক্সবাজার সৈকত   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close