বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: জরুরি গ্যাস আমদানিসহ ৪ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন      ইউরোপীয় দেশগুলোর জাহাজ জব্দের হুঁশিয়ারি পুতিনের      প্রধানমন্ত্রীর সিল-স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা, ৬ জন রিমান্ডে      রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান      মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ: সাইফুল হক      চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের অন্যতম রূপকার ঝু রংজি আর নেই      ডেঙ্গুতে এক দিনে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭২৩      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা
ক্ষমতার ছয় মাসে আলোচনায় যারা
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৫ এএম আপডেট: ১৩.০৮.২০২৬ ১১:৩২ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। আগামী ১৬ আগস্ট ছয় মাসের মেয়াদ পূর্ণ করবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক গতি বাড়ানো, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জনসেবা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছিল সেই কর্মপরিকল্পনার বড় অংশ।

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি মন্ত্রী-এমপিদের এলাকায় যাতায়াত, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমিকা, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে মৌখিকভাবে সতর্কও করা হয়েছে বলে বিস্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। 

সরকারের ১৮০ দিনের এসময়ে সব মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী অবশ্য সমানভাবে আলোচনা বা সমালোচনায় ছিলেন না। কেউ নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে, কেউ বিতর্কিত মন্তব্যে, কেউ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। আবার কারও ক্ষেত্রে বড় সংকটের সময় মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন আবার বিতর্ক কাটিয়ে কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। 

সরকারের প্রথম দিকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে এক বৈঠকে তিনি মন্ত্রীদের অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য না করার নির্দেশ দেন। যাচাই করা ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য ছাড়া বক্তব্য না দেওয়ার জন্যও তাদের সতর্ক করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশের পেছনে কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক বড় কারণ ছিল। বিশেষ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের পরিবহন খাতের অর্থ আদায় নিয়ে বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল।

‘চাঁদা’ নিয়ে মন্তব্যে তীব্র সমালোচনায় শেখ রবিউল আলম

বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসা মন্ত্রীদের একজন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদা আদায় নিয়ে তার একটি বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

১৯ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে নেওয়া অর্থকে সরাসরি চাঁদাবাজি হিসেবে দেখার বিষয়ে আপত্তি জানান।

তার বক্তব্য ছিল, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কল্যাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করলে সেটিকে চাঁদাবাজি বলা কঠিন।

পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলে তিনি আবারও নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন।

বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মন্ত্রীর বক্তব্যকে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “পরিবহন খাতে প্রচলিত চাঁদাবাজিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হলে তা একটি অনৈতিক ও সংঘবদ্ধ দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।”

তিন ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বড় বিতর্কে মীর শাহে আলম 

সরকারের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রতিমন্ত্রীদের একজন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গত জুন মাসে বগুড়ায় নতুন তিন ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে তাকে ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়।

অভিযোগ ওঠে, নতুন ইউনিয়নগুলোর মধ্যে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামগুলো তার পারিবারিক পরিচয় এবং দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়।

বিষয়টি সংসদেও ওঠে, বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের নামকরণে প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের প্রভাব রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নামগুলো কাকতালীয়ভাবে তার ছেলেদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে।”

এখানেই বিতর্ক শেষ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ দাবি করেন, নামকরণের আগে যথেষ্ট জনমত নেওয়া হয়নি। কয়েকটি এলাকায় মানববন্ধনও হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মনে করেন, এ ধরনের বিতর্ক সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

শাহে আলমকে ঘিরে আরেকটি বিষয় ছিল সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ফাইল অনুমোদনের অভিযোগ। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, সচিবের স্বাক্ষর ছাড়া একটি প্রকল্পের ফাইল অনুমোদন করা হয়েছিল।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টির নির্দিষ্ট ফাইল প্রকাশের দাবি জানান এবং বলেন, “প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে এ ধরনের ফাইল অনুমোদনের বিধান রয়েছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মন্তব্যে পিছু হটতে হয়েছে ববি হাজ্জাজকে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মে মাসে একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান নিয়ে তার মন্তব্য ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। মন্তব্যের একটি অংশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এরপর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠনের মধ্য থেকেও সমালোচনা আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত নিজের মন্তব্য প্রত্যাহার করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, কথাগুলো একটি অনানুষ্ঠানিক পডকাস্ট আলোচনায় বলা হয়েছিল এবং তা কোনো গবেষণাভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি নীতির বক্তব্য ছিল না। একইসঙ্গে তিনি দ্রুত নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে বিতর্ক থামানোর চেষ্টা করেন। 

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের কেন্দ্রে এ এন এম এহসানুল হক মিলন

শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলনের জন্য সরকারের প্রথম ছয় মাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এসেছে এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে। এপ্রিল মাসে সরকার ঘোষণা করে, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হবে। মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে পরীক্ষা নির্বিঘ্নে আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানান।

কিন্তু বর্ষা, জলাবদ্ধতা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের সমস্যা নিয়ে পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। জুলাইয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং পরীক্ষা নিয়ে নানা দাবি সামনে আসে। কিছু পরীক্ষার্থী জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলেন। 

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগে বড় প্রশ্ন 

সরকারের ১৮০ দিনের মূল্যায়নে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ঘটনা চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ। মাত্র সাড়ে তিন মাস দায়িত্ব পালনের পর গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছিল এবং সরকারের প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ঠিক রাখতে তার পদত্যাগ প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি পরে তার পদত্যাগ গ্রহণ করেন।

তবে পদত্যাগের পরই বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। রাঙামাটিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে তার পদত্যাগ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, দীপেন দেওয়ান শারীরিকভাবে সক্ষম এবং রাজনৈতিক কারণে তাকে পদ ছাড়তে হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে রাঙামাটির নাগরিক সমাজও তার পুনর্বহালের দাবি তোলে। এমনকি দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের কারণ অনুসন্ধানের দাবিতে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। 

জ্বালানি সংকটে সমালোচনায় ইকবাল হাসান মাহমুদ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের জন্য সরকারের প্রথম ছয় মাস ছিল একাধিক বড় সংকটে ভরা। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট তৈরি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

তখন মন্ত্রী বলেন, “দেশে প্রকৃত জ্বালানি সংকট নেই; বরং মজুতদারি, আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা ও কালোবাজারির কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।”

পরে মার্চ মাসেও তিনি বলেন, “দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত আছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার রেশনিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছে।”

তবে জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি সামলানোর মধ্যেই জুলাইয়ে গ্যাস সংকট বড় আকার নেয়। মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়।

মন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল মেরামতের কারণে দুটি এলএনজি কার্গো খালাস করা যায়নি এবং সংকট হয়েছে। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সার উৎপাদন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। ফলে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রথম ছয় মাসের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্বের পরিধি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, পুলিশ প্রশাসন, মাদক, চোরাচালান এবং রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবিলা সবকিছুর চাপ এ মন্ত্রণালয়ের ওপর।
 
সরকারের শুরুতেই তিনি ‘মব সংস্কৃতি’ বন্ধের ঘোষণা দেন। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতার প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। তবে দায়িত্ব পালনের সময় তার কিছু বক্তব্যও বিতর্ক তৈরি করে।

সীমান্তে হত্যার সংজ্ঞা নিয়ে জুনে তিনি বলেন, “কোনো বিদেশি বাহিনী বাংলাদেশে ঢুকে বা সীমান্তরেখায় কাউকে হত্যা করলে সেটিকে সীমান্ত হত্যা বলা যায়; কিন্তু কেউ অপরাধ বা অবৈধ অনুপ্রবেশে জড়িত থাকলে নিজ দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাকে হত্যা করলে সেটিকে একইভাবে সীমান্ত হত্যা বলা উচিত নয়।”

বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের ওপর দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের দাবিও তুলেছেন। তিনি ব্যাংক দখল, ঋণ কেলেঙ্কারি, বড় প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা সংসদে বলেন।

জুলাইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি ভিত্তি সরকার এখনো খুঁজে পায়নি।”

অর্থনীতির কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী 

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার সময় পেয়েছেন গভীর সংকটে থাকা অর্থনীতি। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, রাজস্ব ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং বিনিয়োগের স্থবিরতা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকারের প্রথম বাজেট ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সরকারের লক্ষ্য ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি।

তবে অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিদায় নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। গভর্নরের আকস্মিক বিদায় অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

সরকারের অর্থনৈতিক নীতির আরেকটি বড় পরীক্ষা হচ্ছে ব্যাংক খাত। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি থাকলেও ছয় মাসে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।


কেকে/সাশ 



মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close