টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে জেলা সদর, লামা, আলীকদম, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও বান্দরবান-কক্সবাজার সড়কে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।
অবিরাম বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। অনেক এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাংগু নদীর পানি ১৬ দশমিক ২২ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ১৩ দশমিক ৩৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বান্দরবান কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ সনাতন মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত) বান্দরবানে ২৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত।
নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বান্দরবান জেলা সদরের নদীতীরবর্তী এলাকা, আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলানগরসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন।
জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার প্রেক্ষাপটে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আগামী ১০ ও ১১ জুলাইয়ের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঝুঁকিতে থাকা মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শুকনো খাবার, খিচুড়ি ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক বলেন, টানা বৃষ্টিতে জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে এসে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।
কেকে/ এমএস