গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় বীর উজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজের পর বীর উজলী বাজারের মফিজ উদ্দিনের ভবনের তৃতীয় তলা থেকে তার রক্তমাখা জামা, জুতা ও বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে এসব আলামত উদ্ধার করেন টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, ডুমদিয়া গ্রামের সোহাগ রানার ছেলে তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত বীর উজলী মডেল একাডেমিতে পড়াশোনা করে। সে নিখোঁজ হওয়ার পর তার রক্তমাখা জামা, জুতা ও আইডি কার্ড উদ্ধারের বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনির হোসেন জানান, টিফিনের সময় খাবার খেতে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়েছিল অনন্ত। এরপর সে আর শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসেনি। পরে শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘অষ্টম শ্রেণির ছাত্র অনন্তের রোল নম্বর ৩। সে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। টিফিনের সময় বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। খবর পেয়ে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে জানতে পারি, তার রক্তমাখা জামা পাওয়া গেছে।’
অনন্তের বাবা সোহাগ রানা বলেন, ‘আমার ছেলে বিদ্যালয় থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তার জামা, জুতা ও আইডি কার্ড পাওয়া গেছে। কিন্তু এখনো তার কোনো সন্ধান পাইনি। ছেলেকে খুঁজে পেতে আমি কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ দিতে এসেছি।’
এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনন্ত নামে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর তার রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’
এদিকে রক্তমাখা জামা, জুতা ও বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় অনন্তের পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তার সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করছেন।
তবে জামা ও জুতায় রক্তের দাগ কীভাবে এসেছে, ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে এবং অনন্ত বর্তমানে কোথায় রয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তের পর নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কেকে/এলএ